×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফেসবুকে গালাগাল বন্ধে আসছে আইন, বড় বার্তা তথ্যমন্ত্রীর

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ১৮:১৫:৪২
ফেসবুকে গালাগাল বন্ধে আসছে আইন, বড় বার্তা তথ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালাগাল, মানহানিকর বক্তব্য ও বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন তৈরির বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। তবে প্রস্তাবিত কোনো আইন যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কিংবা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার হাতিয়ার হয়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে গালিগালাজ, অশালীন ভাষা ও মানহানিকর বক্তব্যের ব্যবহার বেড়েছে। এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণে আইনগত কাঠামো কীভাবে তৈরি করা যায়, একই সঙ্গে মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়—তা নিয়ে সরকার আলোচনা করছে।

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের নামে গালিগালাজ, গালিগালাজের ভাষা বা যা যা হচ্ছে, এই জিনিসগুলোকে আমরা কীভাবে আইনের মধ্যে আনতে পারি, একই সময়ে আমরা কীভাবে এক্সপ্রেশন, মানে মিডিয়ার যে ফ্রিডম, সেটাকেও রেসপেক্ট করতে পারি—দুটির মধ্যে যেন কোনোভাবে কনফ্লিক্ট না হয়।’

নতুন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে শব্দচয়ন ও আইনের ব্যাখ্যার সুযোগ নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে অপব্যবহারের পথ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন পার্থ।

গত ১৭ বছরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইন সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের অভিযোগের প্রসঙ্গও তিনি তুলে ধরেন। তার মতে, কোনো আইন একবার প্রণয়ন করা হলে ভবিষ্যতের সরকারও সেটি ব্যবহার করতে পারে। তাই আইন তৈরির সময় এমন কোনো শব্দ বা ধারা রাখা উচিত নয়, যার অপব্যাখ্যার মাধ্যমে মানুষের অধিকার সীমিত করার সুযোগ তৈরি হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো কারণে আইন তো আর একদিনের জন্য হয় না। আমরা খুব কেয়ারফুল থাকার চেষ্টা করছি, কোনো ওয়ার্ডিং যেন আগামীতে এই ধরনের কোনো দরজা না খুলে দেয়।’

সাম্প্রতিক সময়েও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার মান নিয়ে পার্থ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও পেশাগত মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন।

তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে শুধু সরাসরি গালিগালাজ নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য বা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য তৈরি করার পাশাপাশি অন্য কেউ সেটি যাচাই না করে পুনরায় শেয়ার করলেও ক্ষতি বাড়তে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

তার ভাষ্য, ‘যেকোনো কনটেন্ট পেলেই শেয়ার করে দেওয়া, মানহানিকর বক্তব্য বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য পুনরায় প্রচার—এটাও একটা মানহানিকর বিষয়।’এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে সরকার একটি কর্মসূচি নেওয়ার কথাও ভাবছে বলে জানান তিনি।

প্রস্তাবিত আইনটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলেও স্পষ্ট করেছেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে খসড়া তৈরির চেষ্টা চলছে।

পার্থ বলেন, আইনটি এমনভাবে প্রণয়ন করতে চান তারা, যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীনতা ও মানহানিকর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়, কিন্তু একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতামত, সমালোচনা, সাংবাদিকতা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর অযাচিত নিয়ন্ত্রণ তৈরি না হয়।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সেক্টরের যারা আছেন তাদের সঙ্গে কথা বলছি, যেন ড্রাফটটা এমনভাবে হয়, এটা দিয়ে ভবিষ্যতে অ্যাবিউজ করার কোনো কিছু না থাকে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের সঙ্গে অনলাইনে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশালীন ভাষা ও মানহানিকর বক্তব্য নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে। একই সময়ে, এসব নিয়ন্ত্রণের নামে রাষ্ট্র যেন বৈধ সমালোচনা বা ভিন্নমত দমনের সুযোগ না পায়—এমন উদ্বেগও রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে এখন যে অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে, তাতে মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই দুই বিষয়কে কীভাবে ভারসাম্যের মধ্যে রাখা যায়। একদিকে অনলাইনে ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সামাজিক শালীনতা রক্ষা, অন্যদিকে নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা।

তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত আইন তৈরির ক্ষেত্রে এই ভারসাম্যকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পার্থ মনে করেন, শুধু আইন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি মানুষের মধ্যে দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

তার মতে, কোনো তথ্য বা বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ বা শেয়ার করার আগে সেটির সত্যতা ও সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির সম্মানহানি হতে পারে—এমন তথ্য যাচাই ছাড়া ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

ফলে সরকারের বর্তমান উদ্যোগটি শুধু নতুন আইন প্রণয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, নাকি এর সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা তৈরির কর্মসূচিও যুক্ত হবে—তা খসড়া ও পরবর্তী আলোচনায় আরও স্পষ্ট হবে।

এ মুহূর্তে নতুন কোনো আইন চূড়ান্ত বা কার্যকর হয়নি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালাগাল, মানহানিকর বক্তব্য ও আপত্তিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইন তৈরির বিষয়েই আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে