×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমেরিকার ভিসায় বাংলাদেশিদের নতুন হিসাব

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ০৯:০০:৪৯
আমেরিকার ভিসায় বাংলাদেশিদের নতুন হিসাব

নিজস্ব প্রতিবেদক : যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা করতে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের এখন শুধু আবেদন ফি হিসাব করলেই হবে না। বিশেষ করে পর্যটন ও ব্যবসার B-1/B-2 ভিসার ক্ষেত্রে ২০২৬ সাল থেকে ভিসা বন্ডের নিয়ম চালু হওয়ায় আবেদনকারীদের সম্ভাব্য আর্থিক দায় সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা রাখা জরুরি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য B-1/B-2 ভিসার ক্ষেত্রে ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ভিসা বন্ডের নিয়ম কার্যকর হয়েছে। কোনো আবেদনকারী ভিসার জন্য অন্যথায় যোগ্য হলে কনস্যুলার কর্মকর্তা সাক্ষাৎকারের সময় ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণ করতে পারেন। তবে কর্মকর্তার নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত নিজ উদ্যোগে এই বন্ড জমা দেওয়া যাবে না।

এই বন্ড সাধারণ ভিসা আবেদন ফি নয়। কনস্যুলার কর্মকর্তা নির্দেশ দেওয়ার পর নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়ায় বন্ড জমা দিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে সরকারি পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে হবে। তৃতীয় পক্ষের কোনো ওয়েবসাইটে এই অর্থ জমা না দেওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।

বন্ডের অর্থ আবেদনকারী নিজে অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি জমা দিতে পারেন। নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ না হলে বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বন্ড দেওয়া মানেই ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। কনস্যুলার কর্মকর্তার নির্দেশ ছাড়া কেউ নিজ উদ্যোগে টাকা জমা দিলে সেই অর্থ ফেরত নাও পাওয়া যেতে পারে।

অন্যদিকে B-1/B-2 ভিসার আবেদন ফি আলাদা। অর্থাৎ আবেদনকারীকে ভিসার জন্য নির্ধারিত আবেদন ফি দিতে হবে এবং কোনো ক্ষেত্রে বন্ডের নির্দেশ দেওয়া হলে সেটিও আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ভিসার মেয়াদ ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। ভিসার মেয়াদ কতদিন, সেটি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কতদিন থাকা যাবে—তার সমান নয়। দেশটিতে প্রবেশের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত থাকার সময় নির্ধারণ করে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট ভিসার ধরন, আবেদন ফি এবং প্রযোজ্য বন্ডের নিয়ম ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে B-1/B-2 ভিসার ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলারের সম্ভাব্য বন্ডের বিষয়টি আবেদনকারীদের আর্থিক পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা করতে এখন শুধু আবেদন ফি হাতে রাখলেই হবে না। ভিসার ধরন অনুযায়ী সম্ভাব্য বন্ড, অন্যান্য সরকারি ফি এবং ভ্রমণসংক্রান্ত খরচ—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই আবেদনকারীদের প্রস্তুতি নিতে হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

প্রবাস এর সর্বশেষ খবর

প্রবাস - এর সব খবর



রে