×
ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কারসাজির খেলায় অস্বাভাবিক দর, তদন্তের খবরে বড় পতন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ১৫:১৯:৪৫
কারসাজির খেলায় অস্বাভাবিক দর, তদন্তের খবরে বড় পতন

নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির পর এবার বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মাত্র ১৬ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ৫৬ শতাংশ কমেছে। এর আগে অস্বাভাবিক দর ও লেনদেনের কারণে কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দর ছিল ৪৪ টাকা ১০ পয়সা। সেখান থেকে কমে ৬ সেপ্টেম্বর তা নেমে এসেছে ১৯ টাকা ৫০ পয়সায়। অর্থাৎ ১৬ কার্যদিবসে শেয়ারটির দর কমেছে ২৪ টাকা ৬০ পয়সা বা প্রায় ৫৬ শতাংশ। তবে আজ ৭ সেপ্টেম্বর শেয়ারটির দর ৮০ পয়সা ৪.১০ শতাংশ বেড়েছে।

তবে এর আগে চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যায়। গত ১৫ জুন শেয়ারটির দর ছিল প্রায় ১৭ টাকা। এরপর ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ১২ আগস্ট ৪৪ টাকা ১০ পয়সায় উঠে যায়। এতে প্রায় আট সপ্তাহে দর বাড়ে ২৭ টাকা ১০ পয়সা বা প্রায় ১৫৬ শতাংশ।

শেয়ারটির অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ডিএসইকে তদন্তের নির্দেশ দেয় বিএসইসি। এর আগে অস্বাভাবিক মূল্য ও লেনদেনের বিষয়ে কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যাও চায় ডিএসই।

জবাবে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ ডিএসইকে জানায়, শেয়ারদরে এমন অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণ হতে পারে—এমন কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য তাদের কাছে নেই।

ডিএসইর তদন্তে কোম্পানিটির শেয়ারের লেনদেনের ধরন ও কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি বাজার কারসাজি, অস্বাভাবিক বা সমন্বিত লেনদেন, অভ্যন্তরীণ তথ্যের অপব্যবহার কিংবা শেয়ারবাজারসংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তাও তদন্তে যাচাই করা হতে পারে।

এদিকে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে শেয়ারের বড় পতনে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির সময় অর্জিত মুনাফার একটি বড় অংশই মুছে গেছে। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১২ আগস্টের সর্বোচ্চ দরের তুলনায় ৫৫ শতাংশেরও বেশি নিচে অবস্থান করছে।

শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদরে এমন নাটকীয় পরিবর্তন ঘটছে এমন এক সময়ে, যখন কোম্পানিটি বড় ধরনের পরিচালনাগত সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কোম্পানিটির উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের দৈনিক সুতা উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ৭০ টন হলেও বর্তমানে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় ৪২ টনে।

কোম্পানিটির কারখানায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার স্পিন্ডল রয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে কোম্পানির আর্থিক ফলাফলেও।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ প্রায় ২৫৭ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও কোম্পানিটির নিট লোকসান হয়েছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ১৬ পয়সা। আর ২০২৬ সালের মার্চ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ছিল ৭ টাকা ৯২ পয়সা।

অন্যদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে কোম্পানিটির রাজস্ব হয়েছে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা। এ সময়ে লোকসান হয়েছে প্রায় ২১ কোটি টাকা। মার্চ শেষে কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৮ কোটি টাকা।

তবে আর্থিক ও উৎপাদনগত চাপের মধ্যেও ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে আশাবাদী কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, ব্যবসা পুনরুদ্ধারে কয়েকটি ইতিবাচক বিষয় সহায়ক হতে পারে।

কোম্পানির দাবি, আগামী ছয় মাসের জন্য তাদের নিশ্চিত অর্ডার রয়েছে। একই সঙ্গে সুতার দামও বেড়েছে। রপ্তানি প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং ব্যবস্থার চাপ কমে আসাও কোম্পানিটির ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের প্রত্যাশা, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতার আরও বেশি ব্যবহার করে নিশ্চিত হওয়া অর্ডারগুলো সময়মতো সরবরাহ করা যাবে।

এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে সুতার সরবরাহ কমে গেলে নতুন অর্ডার পাওয়ারও সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে কোম্পানিটি।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে