×
ঢাকা, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে শেয়ারবাজার, বাড়ছে লেনদেন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৫ ১৯:২৮:০০
মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে শেয়ারবাজার, বাড়ছে লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা দরপতন ও বিক্রয়চাপের ধাক্কা সামলে দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে ফের ইতিবাচক গতি দেখা দিয়েছে। সপ্তাহের মাঝামাঝি নিয়ন্ত্রক সংস্থার আশ্বাসমূলক বার্তা এবং অনেক শেয়ারের দাম তুলনামূলক নিচে নেমে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে কেনাকাটার আগ্রহ তৈরি হয়। এর প্রভাবে বাজারে লেনদেনের গতি বাড়ার পাশাপাশি প্রধান সূচকগুলোও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৬৬২ পয়েন্টে উঠে এসেছে। এ সময়ে ডিএস-৩০ সূচক শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৪১ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে অবস্থান করেছে। তবে সূচকে উত্থান দেখা গেলেও ডিএসইর সার্বিক বাজার মূলধন শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৯৮৫ বিলিয়ন টাকায় নেমে এসেছে।

বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় সপ্তাহজুড়ে লেনদেনেও গতি ফিরেছে। ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ আগের সপ্তাহের ৫৭১ কোটি ৭০ লাখ টাকা থেকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে বিদায়ী সপ্তাহে ৬০৮ কোটি ৮০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে গড়ে শেয়ার হস্তান্তরের পরিমাণ শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ১৩ লাখে পৌঁছেছে। অবশ্য গড় ট্রেডের সংখ্যা ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১৬ লাখ ৭ হাজার ৮৮টিতে নেমেছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনেও বিনিয়োগকারীদের নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বিদায়ী সপ্তাহে বস্ত্র খাত মোট লেনদেনের ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ দখল করেছে। এরপর সাধারণ বিমা খাতের অংশ ছিল ১২ দশমিক ০ শতাংশ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সপ্তাহের শুরুতে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যার কারণে করপোরেট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বাড়িয়ে দেয়। এর প্রভাবে বাজারে বিক্রয়চাপ তীব্র হয় এবং প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় দুই মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টের নিচে নেমে যায়।

তবে সপ্তাহের মাঝামাঝি চিত্র পাল্টাতে শুরু করে। শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ইতিবাচক অবস্থান ও আশ্বাস বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ায়। একই সঙ্গে অনেক শেয়ারের দাম বিনিয়োগের জন্য তুলনামূলক আকর্ষণীয় পর্যায়ে চলে আসায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বাজারে সক্রিয় হন। যদিও সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দ্রুত মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দেওয়ায় বাজারের সামগ্রিক ঊর্ধ্বগতি কিছুটা সীমিত হয়ে পড়ে।

খাতভিত্তিক রিটার্নের হিসাবেও বাজারের ইতিবাচক চিত্র ফুটে উঠেছে। বিদায়ী সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি রিটার্ন দিয়েছে সাধারণ বিমা খাত, ২ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ১ দশমিক ৪ শতাংশ, পাট খাতে ১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং আইটি খাতে ১ দশমিক ২ শতাংশ রিটার্ন এসেছে।

অন্যদিকে কয়েকটি খাতে নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে। এর মধ্যে সেবা ও আবাসন খাতে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ১ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন হয়েছে। টেলিকমিউনিকেশন খাতে রিটার্ন কমেছে ১ দশমিক ১ শতাংশ এবং ব্যাংক খাতে কমেছে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর



রে