×
ঢাকা, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজা নিয়ে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ!

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৫ ১১:২৩:৩২
গাজা নিয়ে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ!

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বা অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে না বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ গাজার জনসংখ্যা সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার পর ওয়াশিংটন নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনাতেও বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পরিকল্পনার ১২ নম্বর দফায় বলা হয়েছে—কাউকে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না। যারা চলে যেতে চান, তারা স্বাধীনভাবে যেতে পারবেন এবং চাইলে গাজায় ফিরে আসতে পারবেন।

দপ্তরের মুখপাত্র আরও বলেন, গাজার জনগণকে জোর করে বাস্তুচ্যুত করা, বহিষ্কার করা বা বাধ্যতামূলকভাবে অন্যত্র স্থানান্তরের কোনো পরিকল্পনা বা প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে না।

সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ গাজার জনসংখ্যা সরিয়ে দেওয়াকে সংকট সমাধানের পথ হিসেবে তুলে ধরেন।

বুধবার কাটজ বলেন, গাজার জন্য ‘অভিবাসন’ ছাড়া কোনো বাস্তব সমাধান নেই। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বোঝাতে ‘অভিবাসন’ শব্দটি ব্যবহার করছেন।

কাটজ আরও বলেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে সমুদ্রপথে, আকাশপথে কিংবা অন্য যেকোনো উপায়ে বের করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। পরদিন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও একই ধরনের বক্তব্য দেন।তবে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে আরব দেশগুলোও।

২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সে সময় তিনি গাজাকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভিয়েরা’ হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন।

পরে একই বছর গাজা সংকট সমাধানে ২০ দফা পরিকল্পনা সামনে আনেন ট্রাম্প। এর পর তার আগের অবস্থান থেকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যায়।

হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের দিকে আল জাজিরাকে নির্দেশ করেছে। গত আগস্টের ওই পোস্টে ট্রাম্প হামাসকে নিরস্ত্র করার একটি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ধীরে ধীরে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে এবং সেখানে চলমান হামলা বন্ধ হবে। তবে ইসরায়েল প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, গাজা পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ছাড় দেবে না।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার হামাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। একই সময়ে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও বৈঠক করেন।

তবে কুশনারের বক্তব্যে ইসরায়েলি অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে। তিনি বলেন, হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজায় পুনর্গঠন শুরু করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার সীমিত করবে না বলেও জানান তিনি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, গাজা থেকে কোনো স্থানান্তর হলে তা অবশ্যই সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক হতে হবে। একই সঙ্গে গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ, স্থিতিশীল করা এবং পুনর্গঠন করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

দপ্তরটি আরও জানায়, ট্রাম্পের পরিকল্পনার ২০ নম্বর দফায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সংলাপের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক আরব সেন্টারের প্যালেস্টাইন/ইসরায়েল কর্মসূচির প্রধান ইউসুফ মুনাইয়্যার মনে করেন, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা শুধু গাজায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে; এটি পশ্চিম তীর এবং ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হতে পারে।ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য অবস্থানের এই পার্থক্য চলমান আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে