×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বড় সিদ্ধান্ত অভিনেতা নাদির খানের

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ১২:১১:৩৮
নিজের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বড় সিদ্ধান্ত অভিনেতা নাদির খানের

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক ও প্রদর্শক বীর মুক্তিযোদ্ধা নাদির খান দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এরই মধ্যে চলচ্চিত্রজগত থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে জীবনের বাকি সময় আল্লাহর ইবাদতে কাটানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন এই প্রবীণ অভিনেতা।

মৃত্যুর পর কোথায় সমাহিত হবেন, প্রায় দুই দশক আগেই সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নাদির খান। ঢাকার রায়েরবাজারের প্রেমতলায় নিজের জন্য নির্ধারিত কবরের পাশে নিয়মিত যান তিনি। নিজের শেষ ঠিকানা হিসেবে নির্ধারণ করা জায়গাটি নিজ হাতেই পরিষ্কার করেন।

নিজের কবরের পাশে দাঁড়ানোর অনুভূতি জানিয়ে নাদির খান বলেন, মৃত্যুর পর ওই জায়গাতেই তাঁর শেষ ঠিকানা হবে। কবরের পাশে দাঁড়ালে তাঁর মধ্যে এক ধরনের ভালো লাগা কাজ করে বলেও জানান তিনি।

মৃত্যুকে ভয় পান না জানিয়ে এই অভিনেতা বলেন, মহান আল্লাহ ও রাসুলকে (সা.) যারা ভালোবাসেন, তারা মৃত্যুকে ভয় পান না।

তবে মৃত্যুর পর তাঁর কবরকে কোনোভাবেই মাজারে পরিণত না করার অনুরোধ জানিয়েছেন নাদির খান। তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যারা তাঁকে ভালোবাসেন, তারা যেন তাঁর কবর জিয়ারত করে তাঁর জন্য দোয়া করেন—এটাই তাঁর প্রত্যাশা।

নিজের কবরের পাশে দাঁড়িয়েই চলচ্চিত্রজীবন থেকে বিদায়ের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন নাদির খান। তিনি বলেন, আর অভিনয়ে ফিরবেন না। জীবনের বাকি সময় আল্লাহর ইবাদতে কাটাতে চান।

দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবনে নিজের জানা-অজানা ভুলত্রুটির জন্য চলচ্চিত্র পরিবার ও দেশবাসীর কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।নাদির খান নিজেকে মায়ের প্রতি নিবেদিত সন্তান হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর কাছে মায়ের প্রতি ভালোবাসাই জীবনের সবচেয়ে বড় ধর্ম।

তিনি বলেন, জীবনে যা কিছু অর্জন করেছেন, তা মায়ের দোয়ার ফল। এখনো মায়ের দোয়াতেই বেঁচে আছেন বলে মনে করেন তিনি। মৃত্যুর পরও পরকালে মায়ের সঙ্গে আবার দেখা হবে—এমন বিশ্বাসের কথাও জানিয়েছেন এই অভিনেতা।

মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ প্রথমে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন নাদির খান।

তিনি বলেন, জীবনের যৌবনের সোনালি সময় এফডিসিতেই কেটেছে। দীর্ঘদিন যেসব সহকর্মী ও চলচ্চিত্রের মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁরা যেন শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে পারেন এবং জানাজায় অংশ নিয়ে তাঁর আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে পারেন—এটাই তাঁর শেষ ইচ্ছা।

১৯৫২ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকার রায়েরবাজারে জন্মগ্রহণ করেন নাদির খান। তাঁর ভাষ্যমতে, দীর্ঘ অভিনয়জীবনে প্রায় সাড়ে তিনশ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘কসাই’, ‘উপহার’, ‘চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা’, ‘জংলী রানী’, ‘মনিহার’, ‘দিলদার আলী’, ‘বেদের মেয়ে জোছনা’, ‘অমানুষ’, ‘আবদুল্লাহ’, ‘রঙিন রসের বাইদানী’, ‘ইতিহাস’ ও ‘কাবুলিওয়ালা’।

প্রযোজক হিসেবেও রয়েছে তাঁর দীর্ঘ পথচলা। তাঁর প্রযোজিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘গরীবের বিচার নাই’, ‘রঙিন রসের বাইদানী’, ‘আখেরী জবাব’, ‘আবদুল্লাহ’ ও ‘স্বামী হারা সুন্দরী’ উল্লেখযোগ্য। ‘স্বামী হারা সুন্দরী’ চলচ্চিত্রটি তিনি পরিচালনাও করেছেন।

দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবনের পর্দার বাইরেও নাদির খানের এই সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও জীবনদর্শনেরই প্রতিফলন। এখন জীবনের বাকি সময় ধর্মীয় অনুশীলন ও ইবাদতের মধ্য দিয়ে কাটাতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

বিনোদন এর সর্বশেষ খবর

বিনোদন - এর সব খবর



রে