ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেয়ারবাজারে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ বাড়াতে খসড়া বিধিমালা অনুমোদন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৭:৫৮:৫৩
শেয়ারবাজারে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ বাড়াতে খসড়া বিধিমালা অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১০২তম কমিশন সভায় ডাইরেক্ট লিস্টিং, জেড-ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তর, বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড প্রেরণ এবং ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস পণ্য চালুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান-এর সভাপতিত্বে কমিশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ বাই স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। খসড়াটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পত্রিকায় এবং কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছাড়াই কোনো কোম্পানির সিকিউরিটিজ স্টক এক্সচেঞ্জে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ তৈরি হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানি, কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ১০ শতাংশ সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মালিকানাধীন কোম্পানি এবং বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এ ছাড়া কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনসম্পন্ন বিটিআরসি-অনুমোদিত টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি-সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী অথবা আইসিটি অবকাঠামো কিংবা পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ পাবে। কমপক্ষে ৫ বছর কার্যক্রম পরিচালনাকারী তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানিও এ সুবিধার আওতায় আসবে। একই সঙ্গে কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা বার্ষিক টার্নওভার অথবা মোট সম্পদসম্পন্ন কোম্পানি এবং কমিশনে নিবন্ধিত স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি ও সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো স্টক এক্সচেঞ্জে ডাইরেক্ট লিস্টিং করতে পারবে।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ২০ মে জারি করা কমিশনের ডাইরেক্টিভ নম্বর বিএসইসি/সিএমআরআরসিডি/২০০৯-১৯৩/৭৭-এর সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো প্রয়োজনীয় সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, ‘জেড-ক্যাটাগরি কোম্পানি’র কোনো স্পনসর বা পরিচালকের শেয়ার/ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ লেনদেন বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ঋণখেলাপির কারণে শেয়ার বাজেয়াপ্ত এবং শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যুর ক্ষেত্রে শেয়ার ট্রান্সমিশনের জন্য কমিশনের পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হবে না।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জগুলো প্রযোজ্য লিস্টিং রেগুলেশনস অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সভায় তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড প্রেরণ সংক্রান্ত বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত বা অনুমোদিত লভ্যাংশ প্রেরণের উদ্দেশ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ডাবল ট্যাক্সেশন অ্যাভয়ডেন্স বা ডিটিএ (ডিটিএ) সনদ পাওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের মধ্যেই ওই ডিভিডেন্ড প্রেরণ করতে হবে।

এ ছাড়া স্থানীয় শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ডিভিডেন্ড বিতরণ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রিলিমিনারি ডিভিডেন্ড কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিল করতে হবে। বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড প্রেরণের ৩০ দিনের মধ্যে ডিভিডেন্ড কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল করতে হবে।

এদিকে, ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস পণ্য চালুর লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দাখিল করা কর্মপরিকল্পনাও সভায় অনুমোদন করা হয়েছে। এই কর্মপরিকল্পনার মধ্যে নিয়ন্ত্রক উদ্যোগ, সিস্টেম উন্নয়ন ও অবকাঠামো তৈরি, ক্লিয়ারিং-সেটেলমেন্ট এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ডিএসইর এই কর্মপরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা কমিশন পর্যবেক্ষণ করবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কমিশন নিয়মিতভাবে ডিএসইর কার্যক্রম মনিটর করবে। প্রাথমিক ডেরিভেটিভস পণ্য হিসেবে ইনডেক্স ফিউচার দিয়ে লেনদেন শুরু হবে। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস পণ্যের আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে