ঢাকা, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

‘আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি’

২০২৬ আগস্ট ৩১ ১১:২৮:৪৩
‘আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি’

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিয়ের মাত্র দুই মাস পরই স্ত্রীকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখছিলেন ৩৪ বছর বয়সী প্রমোদ পোদেল। কিন্তু নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে মুহূর্তেই বদলে গেছে সবকিছু। স্ত্রী সুমিত্রা সাপকোটা, মা, ভাই ও চাচার কোনো খোঁজ নেই। আর প্রমোদের কানে এখনো বাজছে স্ত্রীর সঙ্গে শেষ ফোনালাপের কথা—‘তুমি কেমন আছো? আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’

প্রমোদ পোদেল নেপালের ‘সোলে’ গ্রামের বাসিন্দা। ১৮ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং পরে সেখানকার নাগরিকত্ব লাভ করেন। বর্তমানে পূর্ব সাসেক্সের আকফিল্ড এলাকায় বসবাস করেন তিনি। সেখানে নেপালি স্ট্রিট ফুড ও ফুড ট্রাকের ব্যবসা পরিচালনা করেন।

দুই মাস আগে বিয়ে করেন প্রমোদ। বিয়ের পর তার স্ত্রী সুমিত্রা (২৫) নেপালে প্রমোদের পরিবারের সঙ্গেই থাকছিলেন। খুব শিগগিরই তার যুক্তরাজ্যে যাওয়ার কথা ছিল।কিন্তু এর মধ্যেই ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় তছনছ হয়ে যায় তাদের পরিবার।

বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর প্রমোদ দ্রুত নেপালে ছুটে যান। মেট্রো ইউকের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে সদ্য বিবাহিত স্ত্রী সুমিত্রার সঙ্গে তার শেষবারের মতো ফোনে কথা হয়।

সেই ফোনালাপে সুমিত্রা তাকে বলেছিলেন, ‘তুমি কেমন আছো? আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’এরপর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি প্রমোদ। সেই শেষ কথাগুলোই এখন বারবার তার কানে বাজছে।

প্রমোদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, তার বাবা পুরুসোত্তম পোদেলকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।তবে তার স্ত্রী সুমিত্রা (২৫), মা তুলসা (৫২), ভাই প্রদীপ (৩১) এবং চাচা মাধব প্রসাদ পোদেল (৬৪) এখনো নিখোঁজ।

নেপালে পৌঁছে প্রমোদ নিজেই উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে তাদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন।দ্য সানকে প্রমোদ বলেন, ‘আমি তাদের খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে খুবই আশাবাদী, তবে একই সঙ্গে আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনাও করছি।’

এর আগে বিবিসি রেডিও সাসেক্সের সঙ্গে আলাপকালে প্রমোদ বলেছিলেন, তার পরিবার ও দেশের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন সময়। সেখানে কী ঘটেছে, তা নিজের চোখে দেখতে তাকে নেপালে যেতেই হবে।

তিনি বলেন, সেখানে আসলে কী ঘটেছে, তা কেউ জানে না। বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। কারা কোথায় আছেন, সে সম্পর্কেও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং সেতুগুলো ভেঙে যাওয়ায় অনেক এলাকায় যাতায়াতও সম্ভব হচ্ছে না।

প্রমোদ আরও জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কী ঘটছে, তা জানতে না পারাটাই তার জন্য সবচেয়ে কষ্টের বিষয়গুলোর একটি।

নেপালে পৌঁছে প্রমোদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, বন্যা ও কাদাঝড় এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তাদের পরিবারের বাড়িঘর পুরোপুরি ভেসে গেছে। এমনকি যেখানে তাদের বাড়ি ছিল, সেখানেও এখন আর কিছু অবশিষ্ট নেই।

পুরো সোলে গ্রামটিই প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই এখন স্ত্রী, মা, ভাই ও চাচাকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন প্রমোদ।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে