ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

আসামির গায়ে যে শার্ট, একই শার্ট পুলিশের! যা বললেন কর্মকর্তা

২০২৬ আগস্ট ২৫ ১১:০৭:৫৪
আসামির গায়ে যে শার্ট, একই শার্ট পুলিশের! যা বললেন কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি সিদ্ধার্থ দাসের পরনের শার্টের সঙ্গে রংপুর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তীর শার্টের মিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, আসামি ও তার নিজের পরনের শার্টটি দেশের স্বনামধন্য ব্র্যান্ড আড়ংয়ের। তিনিও আড়ং থেকে একই ধরনের শার্ট কিনেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেটি ব্যবহার করছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা আড়ং কোম্পানির শার্ট। আমি আড়ং থেকে কিনেছিলাম। সম্ভবত রংপুর থেকেই কিনেছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে আমি এই শার্ট পরে আসছি।’

একই ধরনের শার্ট আসামির পরনে থাকায় প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে শুধু শার্টের মিল থাকার ভিত্তিতে কোনো সন্দেহের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না বলে মন্তব্য করেন সনাতন চক্রবর্তী। এমনকি আড়ং কর্তৃপক্ষ শার্টটি শুধু তার কাছেই বিক্রি করেছে—এমন প্রমাণ পাওয়া গেলেও সেটি দিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

একই পরিবারের চার সদস্যকে মাত্র দুজন কীভাবে হত্যা করতে পারে—এ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে। এর জবাবে ডিবির ডিসি বলেন, চারজনকে একসঙ্গে হত্যা করা হয়নি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে পরিবারের পুরুষ সদস্য গণপতি চক্রবর্তীকে দুজন মিলে হত্যা করে। এরপর একইভাবে তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়। পরে তৃতীয় ব্যক্তি এবং সর্বশেষ শিশুটিকে হত্যা করা হয়।

তবে তদন্ত এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে আটক দুই ব্যক্তি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস রোববার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই রাতে নিহতদের সৎকারও সম্পন্ন হয়েছে।

রংপুর ডিবির ডিসি সনাতন চক্রবর্তী দাবি করেছেন, হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা পুলিশ প্রায় গুছিয়ে এনেছে। দ্রুত আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে শনিবার রাতে রংপুর নগরীর দাসপাড়া-মাছুয়াপাড়া এলাকায় রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, কন্যা ও পুত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, আটক দুই ব্যক্তি গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে পর্যায়ক্রমে হত্যা করেছে।

এখন আসামিদের দেওয়া জবানবন্দি, ময়নাতদন্ত এবং ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন মিলিয়ে হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে