ঢাকা, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

একাদশে ভর্তিতে কোটা থাকছে ৭%, মাইগ্রেশনেও থাকছে বড় সুযোগ

২০২৬ আগস্ট ২৪ ১১:৩৩:৫০
একাদশে ভর্তিতে কোটা থাকছে ৭%, মাইগ্রেশনেও থাকছে বড় সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, একাদশে ভর্তির ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বাকি ৭ শতাংশ আসন বিভিন্ন কোটায় সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তবে নীতিমালাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অনুমোদনের আগে এতে পরিবর্তন বা সংশোধন হতে পারে।

খসড়া অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কলেজের ৯৩ শতাংশ আসনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য মোট ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সনদ বা গেজেটের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। ভর্তির সময় মূল কাগজপত্রও প্রদর্শন করতে হবে। তবে যোগ্য মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান না পাওয়া গেলে আসন খালি রাখা যাবে না; মেধাতালিকা থেকে ওই আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে।

প্রস্তাবিত কোটা ব্যবস্থা শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

একাদশে ভর্তির জন্য কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীর এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই মেধাক্রম তৈরি করে ভর্তি করা হবে।

সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে সমান নম্বর হলে সাধারণ গণিত এবং উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানের নম্বর বিবেচনা করা হবে। এরপর প্রয়োজন হলে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর দেখা হবে।

মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে সমান নম্বর হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর বিবেচনার প্রস্তাব রয়েছে।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিন বিভাগের যেকোনোটিতে আবেদন করতে পারবেন।

মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে আবেদন করতে পারবেন।

এ ছাড়া বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—যেকোনো বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্যবিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের জন্যও নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তির সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে ২ সেপ্টেম্বর এবং চলবে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত।পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নে ফল পরিবর্তিত হওয়া শিক্ষার্থীরা ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর আবেদন এবং পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন।

প্রথম দফায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা। নির্বাচন নিশ্চায়নের শেষ সময় ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা। প্রথম মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ হবে ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায়।

চূড়ান্ত ভর্তি চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর। আর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির নিয়মিত ক্লাস শুরু হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

একাদশে ভর্তি প্রক্রিয়ায় মাইগ্রেশনের সুযোগ রাখা হয়েছে। ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম ও বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে কলেজ, বিভাগ ও বিষয় পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন।

তবে অন্য বিভাগ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না। একইভাবে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর পরবর্তীতে আবার বিজ্ঞান বিভাগে ফেরার সুযোগও থাকবে না।

খসড়া নীতিমালায় কলেজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোনো কলেজ একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র বা টিসি দিতে পারবে না।

এ ছাড়া অনুমোদন বা স্বীকৃতিবিহীন কলেজ, অননুমোদিত ক্যাম্পাস বা অনুমোদনহীন কোনো বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।প্রস্তাবিত ফি কাঠামো অনুযায়ী, অনলাইনে একাদশে আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীপ্রতি ২২০ টাকা ফি নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় শিক্ষা বোর্ড শিক্ষার্থীপ্রতি মোট ৩৪০ টাকা নিতে পারে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন, ক্রীড়া, রোভার বা রেঞ্জার, রেড ক্রিসেন্ট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিএনসিসি এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা-সংক্রান্ত ফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এবার বিএনসিসি ফি ৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, গত বছরের নীতিমালাই মূলত বহাল থাকছে। বড় কোনো পরিবর্তন নেই; শুধু বিএনসিসি ফিতে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে