ঢাকা, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

‘আমার জীবনের শেষ সম্বলটাও শেষ হয়ে গেলো’

২০২৬ আগস্ট ২৪ ১১:১১:২০
‘আমার জীবনের শেষ সম্বলটাও শেষ হয়ে গেলো’

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকবো।’ বিয়ের মাত্র কয়েক দিন আগে হবু স্ত্রী আগামী চক্রবর্তীকে নির্মম হত্যাকাণ্ডে হারিয়ে এমনই আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন অদিত কর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তাঁর এই বার্তা স্বজন ও পরিচিতজনদের আবেগাপ্লুত করেছে।

রবিবার রাতে ‘কারমাইকেল কলেজ ক্রাশ অ্যান্ড কনফেশনস’ নামের একটি ফেসবুক পেজে আগামী চক্রবর্তী ও অদিত করের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। ছবিটির সঙ্গে অদিত তাঁর অনুভূতির কথা জানান।অদিত লেখেন, ‘আমার জীবনের শেষ সম্বলটাও শেষ হয়ে গেলো।’

তিনি আরও লেখেন, ‘এটা বুধবারের ছবি। খুব করে বলল সেদিন—“আমরা তো কখনও কাপল পিক তুলি নাই, চলো আজকে তুলি।” চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকবো।’

আগামী চক্রবর্তী ও অদিত করের বিয়ের তারিখ আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল। দুই পরিবারেই চলছিল নতুন জীবন শুরুর প্রস্তুতি। কিন্তু বিয়ের আগেই নির্মম হত্যাকাণ্ডে থেমে গেল আগামী চক্রবর্তীর জীবন।একই ঘটনায় আগামী, তাঁর বাবা, মা ও ভাই প্রাণ হারিয়েছেন।

গত শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

স্বজনদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে পরিবারটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে শনিবার রাতে ওই বাড়িতে যায় পুলিশ। সেখানে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে। রোববার ভোরে তাঁদের আটক করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেন। ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকেও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পুরো পরিবারকে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর মেয়ে আগামী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছিলেন। শিগগিরই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা অদিত করের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।

দুই পরিবারে বিয়ের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই আনন্দের আয়োজনের মধ্যেই পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আগামী।

অদিতের এক বন্ধু জানান, আগামী ও অদিতের বিয়ে চূড়ান্ত হয়েছিল এবং দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু হবু স্ত্রীকে হারিয়ে অদিত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

ওই বন্ধু বলেন, অদিত তাঁর হবু স্ত্রীকে হারিয়ে ‘ট্রমাটাইজড’। এর মধ্যে কয়েক দিন আগেই অদিতের বাবাও মারা গেছেন বলে জানান তিনি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে