×
ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেষের পথে মোদী সরকারের সুদিন 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ০৮:৪৮:১৪
শেষের পথে মোদী সরকারের সুদিন 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক জনরোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে সৃষ্ট এই বিতর্ক এখন আর একক কোনো ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ভারতের সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থার ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

ভারতের নির্বাচনী ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। দিল্লির ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ বাড়ছে। দিল্লির মোট ভোটার সংখ্যার প্রায় ৪৭ লাখ নাম প্রাথমিক খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি এবং পরবর্তী তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩৩ লাখ ভোটারকে নোটিশ প্রদানের বিষয়টি ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে চরমভাবে সংকটাপন্ন করে তুলেছে।

বিজেপি শাসিত ভারতের বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমেছেন বিরোধী দলীয় কর্মীরা। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপি করার মাধ্যমেই ক্ষমতাসীন দল তাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে চাইছে।

গণতন্ত্রে কেবল ভোট দেওয়াটাই শেষ কথা নয়, সেই ভোট প্রক্রিয়াটি যে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়েছে—জনগণের এই বিশ্বাসের জায়গাটুকু অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি। যখন সাধারণ মানুষ নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে, তখন তা পুরো গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর এই অবিশ্বাসের রেশ আসন্ন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনেও পড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর সরকারের সামনে এখন এই ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা সামাল দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার হয়তো কোনোভাবে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চাইবে, কিন্তু জনগণের ক্ষোভ ও অসংক্ষর ভোটারদের অভিযোগ সরকারের জন্য বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে ইউপিএ সরকারের সময়ও মন্ত্রীদের অপসরণের ঘটনা ঘটেছে, যা বিরোধীদলগুলোর চাপের মুখে নতি স্বীকারের উদাহরণ তৈরি করেছিল। বর্তমান সরকার কি সেই একই পথে হাঁটবে, নাকি এই অস্থিরতা সামাল দিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে—তা এখন বড় প্রশ্ন।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের এই অবিশ্বাস ভারতের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের জন্য এক বড় সংকটের ইঙ্গিত। নির্বাচন কমিশন যদি দ্রুত তাদের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে না পারে, তবে ভারতের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে