ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১২ দফা উদ্যোগ, কারসাজিকারীদের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী

২০২৬ জুলাই ০৮ ১৮:০০:২৪
শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১২ দফা উদ্যোগ, কারসাজিকারীদের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক দরপতন, কারসাজি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারীকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুঁজিবাজারে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগে ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান পরিচালনা করেছে। অনুসন্ধানে কয়েকজনকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারবাজারে কারসাজির দায়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করেছে। একই সঙ্গে অধিকতর তদন্তের জন্য অভিযুক্তদের তালিকা দুদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পুঁজিবাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা ও বিপর্যয়ের পেছনে একাধিক কারণ ছিল। এর মধ্যে বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দর নিয়ন্ত্রণ, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ও বন্ড ইস্যুতে বড় ধরনের অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘদিনের তদারকির ঘাটতি এবং সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা অন্যতম।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে সরকার বেশ কিছু অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে—

১. বিএসইসিতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ

২. বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার

৩. লাভজনক সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্তকরণে উদ্বুদ্ধ করা

৪. ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও এসএমই কোম্পানিকে বাজারে আনা

৫. কারসাজি রোধে তথ্য প্রদানকারীর (হুইসেলব্লোয়ার) সুরক্ষা নিশ্চিত করা

৬. অডিট ফার্মগুলোর জন্য প্যানেল নীতিমালা প্রণয়ন

৭. ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাস ও লভ্যাংশ আয়ে দ্বৈত কর বাতিল

৮. শেয়ারবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়েরের বিধান

৯. ‘শেয়ারবাজার সংস্কার কমিশন’ এবং বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন

১০. ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এআইভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু

১১. ই-কেওয়াইসি ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন সহজীকরণ

১২. বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল গঠন এবং ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান সরকার শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আমরা এমন একটি উন্নত পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে চাই, যেখানে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ নিরাপদ থাকবে।”

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে