ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

খেলাপি ঋণ নিয়ে বড় পদক্ষেপ, নতুন আইন আনছে সরকার

২০২৬ জুলাই ০৭ ১০:৪৪:৫৭
খেলাপি ঋণ নিয়ে বড় পদক্ষেপ, নতুন আইন আনছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে পাহাড়সম খেলাপি ঋণ। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা ব্যাংকিং খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় খেলাপি ও অবলোপন করা ঋণ কেনা, পুনর্গঠন এবং পুনরুদ্ধারের জন্য ‘ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি’ (ডিএএমসি) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ লক্ষ্যে ‘ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬’ নামে নতুন একটি আইন প্রণয়নের খসড়া তৈরি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, ডিএএমসি খেলাপি ঋণ কিনতে, পুনর্গঠন, পুনঃতফসিল, জামানত দখল, সম্পদ বিক্রি, আদালতে মামলা পরিচালনা এবং প্রয়োজনে ঋণকে শেয়ারে রূপান্তর করতে পারবে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন, আধুনিকায়ন এবং নতুন বিনিয়োগের ব্যবস্থাও করতে পারবে।

এছাড়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন তহবিলের সঙ্গে যৌথভাবে বিনিয়োগ ফান্ড গঠন করে খেলাপি ঋণ কেনার সুযোগও থাকবে।

ডিএএমসির কার্যক্রম তদারকির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি স্বতন্ত্র ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট (ডিএমইউ) গঠন করা হবে। পাশাপাশি খেলাপি সম্পদ দ্রুত উদ্ধার ও বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্সও থাকবে।আইন অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে টাস্কফোর্সের চাওয়া তথ্য ও নথি সরবরাহ করতে হবে।

অর্থনীতিবিদ এম কে মুজেরী বলেন, আইনটি কার্যকর করতে খেলাপি সম্পদের সঠিক মূল্য নির্ধারণ, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বাস্তবায়ন এবং শক্তিশালী তদারকি নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা গেলে ব্যাংকের ব্যালেন্স শিট থেকে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ দ্রুত অপসারণ সম্ভব হবে এবং নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতাও বাড়বে।

বর্তমানে খেলাপি, অবলোপন করা ও নন-পারফর্মিং ঋণ পুনরুদ্ধার বা বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির জন্য কোনো সমন্বিত আইন নেই। ফলে ব্যাংকগুলোর ব্যালেন্স শিটে বিপুল পরিমাণ ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ আটকে থাকছে, যা নতুন ঋণ বিতরণ ও আর্থিক খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে।

নতুন আইন কার্যকর হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে এসব সম্পদ বিক্রি, পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হবে।

খসড়া আইনে এক বা একাধিক ট্রাস্ট গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ব্যাংক থেকে কেনা খেলাপি সম্পদ ডিএএমসির নিজস্ব সম্পদ হিসেবে নয়, ট্রাস্টের নামে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে কোম্পানি দেউলিয়া হলেও ট্রাস্টের সম্পদের ওপর পাওনাদাররা দাবি করতে পারবেন না।

ডিএএমসি হিসেবে পরিচালিত হতে হলে ডিএমইউর লাইসেন্স নিতে হবে। পাশাপাশি কোম্পানি আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত হওয়া, নির্ধারিত পরিশোধিত মূলধন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, অভিজ্ঞ পরিচালনা পর্ষদ এবং ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।

পরিচালনা পর্ষদের অন্তত ২০ শতাংশ সদস্যকে স্বাধীন পরিচালক হতে হবে এবং তারা কোম্পানির মালিকানা বা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কোনো আর্থিক স্বার্থে জড়িত থাকতে পারবেন না।

অর্থ পাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, প্রতারণা বা জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তদন্ত শেষে ডিএএমসির লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকবে।

ডিএএমসি ঋণ, শেয়ার ও বন্ড ইস্যু, যৌথ বিনিয়োগ, সিকিউরিটাইজেশন এবং বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। তবে স্বার্থের সংঘাত এড়াতে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা থাকবে।

খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারকে আরও পেশাদার করতে লোন সার্ভিসার কোম্পানি (এলএসসি) গঠনের বিধানও রাখা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ঋণগ্রহীতার সঙ্গে আলোচনা, পুনঃতফসিল, সম্পদ অনুসন্ধান, তথ্য বিশ্লেষণ, আদালত-সংক্রান্ত সহায়তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ঋণ পুনরুদ্ধারে কাজ করবে। তবে তারা নিজ নামে মামলা করতে, জনগণের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করতে কিংবা জবরদস্তিমূলক বা বেআইনি উপায়ে ঋণ আদায় করতে পারবে না।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে