ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ভারত-চীনের টানাপোড়েনে নতুন কৌশলে বাংলাদেশ

২০২৬ জুলাই ০৬ ১৬:০৫:৫০
ভারত-চীনের টানাপোড়েনে নতুন কৌশলে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিবেশী ভারত ও কৌশলগত অংশীদার চীনের সঙ্গে একযোগে সম্পর্ক জোরদারের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন সরকার একদিকে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে চীনের বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনার ইঙ্গিত দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার নতুন সরকারপ্রধানদের প্রথম বিদেশ সফরে ভারত সফরের প্রচলিত ধারা থেকে সরে এসে চীনকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন বার্তা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে দুই দেশই এখন নতুন করে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এদিকে চীনের সঙ্গে মোংলা বন্দরের কাছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন এবং তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় কারিগরি সহযোগিতার মতো উদ্যোগ ভারতের নীতিনির্ধারকদেরও নজরে রয়েছে।

বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ সহযোগিতায় কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শ্যাম শরণের বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী অর্থনৈতিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এবং বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা প্রদানও পুনরায় শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা-ঢাকা ও ঢাকা-আগরতলা রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচলও আংশিকভাবে পুনরায় চালু হয়েছে।

তবে ইতিবাচক অগ্রগতির পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখনও দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলছে। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, সীমান্তে কথিত ‘পুশ-ইন’ অভিযোগ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে সংবেদনশীলতা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিষয় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ও চীন যৌথ কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে ভারতকে এ প্রকল্পে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘ সময় লেগেছে। সে তুলনায় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা বেশি বলে তারা মনে করেন।

চীনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা কোনো তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে নয়। বেইজিংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের সহযোগিতা পারস্পরিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী এবং প্রধান সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ। এছাড়া বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারকে যুক্ত করে একটি অর্থনৈতিক করিডোর গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে বেইজিং।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা। একদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণ, অন্যদিকে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক—এই দুই লক্ষ্য সমন্বয় করেই আগামী দিনের কূটনৈতিক পথ নির্ধারণ করতে হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে