ঢাকা, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

দর সংশোধনের প্রত্যাশা থাকলেও শেষ হাসি সূচকের

২০২৬ জুন ২৯ ১৪:৪৯:০৬
দর সংশোধনের প্রত্যাশা থাকলেও শেষ হাসি সূচকের

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা চার কার্যদিবসের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর সোমবার (২৯ জুন) শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক দর সংশোধনের প্রত্যাশা ছিল বিনিয়োগকারীদের। লেনদেনের মাঝপথে সেই আভাসও মিলেছিল। তবে দিনের শেষভাগে বাজার ঘুরে দাঁড়ায় এবং প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রধান সূচকসহ দুটি সূচক ইতিবাচক অবস্থানে লেনদেন শেষ করে। একই সঙ্গে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধি পেলেও টাকার অঙ্কে মোট লেনদেন আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কমেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য অনুকূল। গত চার কার্যদিবস ধরে সূচক ও লেনদেন—উভয়ই ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার প্রতিফলন। তাদের ভাষ্য, বিনিয়োগকারীরা এখন আবেগের পরিবর্তে সতর্কতার সঙ্গে কোম্পানির মৌলভিত্তি ও বাজার পরিস্থিতি যাচাই করে বিনিয়োগ করছেন, যার প্রতিফলন সোমবারের লেনদেনেও দেখা গেছে।

দিনের শুরুতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সকাল ১১টার পর সূচক নিম্নমুখী হতে শুরু করে। এতে বাজারে ধারণা তৈরি হয় যে, চার দিনের টানা উত্থানের পর এদিন স্বাভাবিক দর সংশোধনের মাধ্যমে সূচকের পতন ঘটতে পারে। এ অবস্থায় অনেক বিনিয়োগকারী নতুন করে লেনদেনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। আবার অনেকে সম্ভাব্য দর সংশোধনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপেক্ষাকৃত কম দামে শেয়ার সংগ্রহ করতে থাকেন।

তবে দিনের শেষভাগে বাজারের চিত্র পাল্টে যায়। সূচক আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ইতিবাচক অবস্থানে লেনদেন শেষ করে। ফলে দর সংশোধনের আশঙ্কা থাকলেও দিন শেষে সূচকের সামান্য উত্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজারের প্রতি আস্থা আরও জোরালো করেছে। যদিও টাকার অঙ্কে লেনদেন কিছুটা কমেছে, তবুও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রবণতাই বজায় ছিল।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২.৭৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭২২.৫৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্যদিকে ডিএসইএস সূচক ০.২২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫৬.৭৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। তবে ডিএসই-৩০ সূচক ৩.৮৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ১৬৬.৪৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯৯টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৭৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ১৫৮টির দর কমেছে এবং ৬৩টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

লেনদেনের পরিমাণের দিক থেকে ডিএসইতে সোমবার প্রায় ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ৩৭১ কোটি ৩ লাখ টাকা। ফলে এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন প্রায় ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা কমেছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-তেও লেনদেন কিছুটা কমেছে। সোমবার সিএসইতে ৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে সেখানে লেনদেন হয়েছিল ৩৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকার।

সিএসইতে এদিন ২৪৫টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০৫টি প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে, ১০৩টির দর কমেছে এবং ৩৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

এদিকে, সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২.৩১ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৩৫২.০৯ পয়েন্টে অবস্থান করেছে। উল্লেখ্য, আগের কার্যদিবসে এই সূচক ১৯৭.২০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছিল।

সার্বিকভাবে, সোমবারের লেনদেনে বাজারে দর সংশোধনের সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রধান সূচকের ইতিবাচক সমাপ্তি এবং অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধি বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার ধারাবাহিকতাকেই তুলে ধরেছে। যদিও টাকার অঙ্কে লেনদেন কিছুটা কমেছে, তবুও বাজারের সামগ্রিক প্রবণতা ইতিবাচকই ছিল।

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে