ঢাকা, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

শিল্প খাতে সংকট, দুই বছরে বন্ধ ৪৫৭ প্রতিষ্ঠান

২০২৬ জুন ২৮ ১২:২৮:৪৭
শিল্প খাতে সংকট, দুই বছরে বন্ধ ৪৫৭ প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক: কার্যাদেশ কমে যাওয়া, মালিকদের আর্থিক সংকট, শ্রম অসন্তোষ এবং দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকটের কারণে গত দুই বছরে দেশে ৪৫৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩৯৮টিই গাজীপুর, আশুলিয়া ও চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার গাজীপুরের ইউনিক ডিজাইনার্স লিমিটেড এবং ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড স্থায়ীভাবে উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করে। আর্থিক সংকটের কারণে ১৬ জুন থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর প্রতিষ্ঠান দুটি আর কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শুধু এই দুই কারখানা বন্ধ হওয়ায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন।

তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ হয়ে যাওয়া ৪৫৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৮৭টি তৈরি পোশাক খাতের বাইরের। এছাড়া বিজিএমইএর সদস্য ১০৮টি, বিকেএমইএর ৩৫টি, বিটিএমএর ৮টি এবং বেপজার আওতাধীন ১৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত প্রথম পাঁচ মাসে উৎপাদন ও কার্যাদেশ কমে যাওয়ায় আরও ৭৯টি কারখানা ৭ হাজার ৭৮৪ শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে।

এর আগে বড় পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আল-মুসলিম গ্রুপ তাদের নিটওয়্যার ও ডেনিম কারখানা থেকে প্রায় ১ হাজার ৯০০ শ্রমিক ছাঁটাই করে।

শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের দেউলিয়াত্ব, ব্যাংকিং জটিলতা, কাঁচামালের সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে শিল্প খাত বড় ধরনের চাপে রয়েছে।

বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বড় শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম এবং সিএমএসএমই খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার পৃথক তহবিল গঠন করেছে। ইতোমধ্যে বন্ধ ও আংশিকভাবে বন্ধ কারখানার তথ্যও চাওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কাছে।

তবে উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের কঠোর শর্তের কারণে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এসব সুবিধা নিতে পারছে না।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, সব বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়। অনেক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা ও ঋণ-সংক্রান্ত অবস্থার কারণে পুনরায় উৎপাদনে ফেরা কঠিন।

অন্যদিকে বিজিএমইএর সহসভাপতি শিহাব উদদোজা চৌধুরী জানান, প্রায় ২০০টি বন্ধ এবং ১২৩টি আংশিকভাবে বন্ধ কারখানা সরকারের আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, কম সুদ এবং ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, আগ্রহী কারখানাগুলোর সক্ষমতা যাচাইয়ে দুটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পাঠানো হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে