ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

শিয়া প্রবাসীদের বহিষ্কার ও ব্যাংক হিসাব জব্দের অভিযোগ

২০২৬ জুন ১৯ ১৪:৫১:০৫
শিয়া প্রবাসীদের বহিষ্কার ও ব্যাংক হিসাব জব্দের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) কর্মরত কিছু পাকিস্তানি শিয়া মুসলিম অভিযোগ করেছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তারা চাকরি হারাচ্ছেন, দেশত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন এবং তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে। ইরান-সংক্রান্ত আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনপিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএইতে কর্মরত কয়েকজন পাকিস্তানি শিয়া মুসলিমকে হঠাৎ পুলিশ স্টেশনে হাজির হতে বলা হয়। পরে তাদের আটক করে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকে দাবি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ জানানো হয়নি।

কিছু প্রবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, শিয়া মসজিদ ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে নজরদারির আওতায় রয়েছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে কয়েকজন দাবি করেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, ইরান সফর এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল।

পাকিস্তানের কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও শিয়া সম্প্রদায়ের নেতাদের দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কয়েক হাজার শিয়া মুসলিমকে ইউএই থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে বহিষ্কৃতের সংখ্যা ৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার পর্যন্ত বলা হলেও এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বহিষ্কৃতদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, দেশে ফিরে তারা নিজেদের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতে পারেননি। ফলে সঞ্চিত অর্থ, ব্যবসা ও ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

অন্যদিকে ইউএই কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নয়; বরং স্থানীয় আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের কারণে বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগগুলোর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। তবে বহিষ্কার ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর প্রকৃত পরিধি এবং কারণ সম্পর্কে এখনও পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

বর্তমানে প্রায় ১৮ লাখ পাকিস্তানি নাগরিক ইউএইতে বসবাস ও কাজ করেন। ফলে এ ধরনের অভিযোগ শুধু মানবিক নয়, পাকিস্তানের শ্রমবাজার, প্রবাসী কল্যাণ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে