ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

যেভাবে বেনজীরকে ধরিয়ে দেন এমপি বন্ধু

২০২৬ জুন ১৬ ১০:৫১:১৪
যেভাবে বেনজীরকে ধরিয়ে দেন এমপি বন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমদকে দুবাই বিমানবন্দর থেকে নয়, বরং গত ১২ জুন তার বাসার নিকটবর্তী একটি শপিং মল থেকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। দুবাইয়ে টানা সরকারি ছুটির কারণে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) তাকে আদালতে হাজির করা হতে পারে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদনের শুনানিও হতে পারে।

পারিবারিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বেনজীর আহমদ পরিবারের সঙ্গে দুবাইয়ে অবস্থান করছিলেন। ১২ জুন চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক সংসদ সদস্য, যিনি তার বন্ধু ও ব্যবসায়িক সহযোগী হিসেবে পরিচিত, ফোন করে তাকে নিকটবর্তী একটি শপিং মলে দেখা করতে বলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর দুবাই পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের অভিযোগ, ওই সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাদের আরও দাবি, বাংলাদেশ পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশের কারণে বেনজীর আহমদকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে রেড নোটিশসংক্রান্ত কিছু নথি দুবাই পুলিশের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন বা আনুষ্ঠানিক কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।

বেনজীর আহমদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, আটকের পর দুবাই পুলিশ তার ভিসার বৈধতা, দেশটিতে অবস্থানের উদ্দেশ্য এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে যাচাই করে। পরে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোল নোটিশ রয়েছে—এ তথ্য ঢাকার ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ও বাংলাদেশ পুলিশকে অবহিত করা হয়।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, দুবাইয়ে তার পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। আইনজীবীর পরামর্শে ঢাকায় চলমান মামলাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্রও সেখানে পাঠানো হয়েছে। ১২ জুনের পর কয়েকদিন সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক অবকাশ থাকায় আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম সীমিত ছিল। মঙ্গলবার থেকে স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হলে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করবেন। অন্যদিকে আদালতে হাজির না করা হলে প্রসিকিউশন দপ্তরে প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দেওয়া হবে। এ বিষয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

যে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বেনজীর আহমদকে শপিং মলে ডেকে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পরে স্বল্প সময়ের জন্য ফোনে সংযোগ স্থাপিত হলেও তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে বেনজীর আহমদ বর্তমানে দুবাই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্টারপোল নোটিশের সূত্রেই বিষয়টি বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। তবে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আটক প্রক্রিয়াটি কেবল ইন্টারপোলের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ ছিল কি না, কিংবা অন্য কোনো কারণও এতে ভূমিকা রেখেছে কি না—সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এদিকে, তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পুলিশের সাবেক এক অতিরিক্ত আইজিপির মতে, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট দুই দেশের আইন, পারস্পরিক চুক্তি, মামলার প্রকৃতি এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, কেবল ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হলেই দ্রুত প্রত্যর্পণ সম্ভব হয় না।

তার মতে, বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন করলেও দুবাই কর্তৃপক্ষ অভিযোগের আইনগত ভিত্তি ও মামলার নথিপত্র যাচাই করবে। পরিচয় বা ভ্রমণসংক্রান্ত কোনো জটিলতা থাকলেও পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, “সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পুলিশ সদর দপ্তর স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।”

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে দেশে একাধিক মামলা ও অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তার আটক-পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখন দুবাইয়ের আদালত, প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার পর তার জামিন, আটকাদেশ এবং সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।

কুলসুম/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে