ঢাকা, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

বন্ধ হচ্ছে যুদ্ধ, সমঝোতায় পৌঁছাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

২০২৬ জুন ১৫ ১০:৩৭:০৬
বন্ধ হচ্ছে যুদ্ধ, সমঝোতায় পৌঁছাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিনের সামরিক সংঘাত ও কূটনৈতিক উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে। উভয় পক্ষই সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রোববার জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং উভয় পক্ষ সামরিক কার্যক্রম বন্ধে সম্মত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে।

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুনরায় চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানান, শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তার মতে, এই সমঝোতার ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নয়, বরং লেবাননসহ অন্যান্য ফ্রন্টে চলমান উত্তেজনাও প্রশমিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

চুক্তির ঘোষণার পর ইরানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরানি জনগণের প্রতিরোধ ও কৌশলগত অবস্থানের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সমঝোতার পথে আসতে হয়েছে। তারা এই সমঝোতাকে ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামরিক কার্যক্রম সীমিতকরণ, হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সংলাপের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছিল, তা অনেকটাই কমে আসতে পারে। ইতোমধ্যে তেলের বাজারেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর আগামী শুক্রবারের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের দিকে। চুক্তিটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

কুশল/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে