ঢাকা, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

ভারতকে দাসত্বের পাল্টা জবাব দিল বাংলাদেশ

২০২৬ জুন ১৪ ১২:৩১:৪৪
ভারতকে দাসত্বের পাল্টা জবাব দিল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর একটি অতি সুরক্ষিত ও অভিজাত লাউঞ্জে বসেছিল এক বিশেষ আড্ডা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশের স্বঘোষিত ‘সুশীল সমাজের’ প্রতিনিধি, বিদেশি কূটনীতিক এবং প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। আড্ডার মূল বিষয়বস্তু ছিল এদেশের সাধারণ মানুষ এবং সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরী বিজিবি জওয়ানদের ‘দুর্বল ইংরেজি’ নিয়ে হাস্যরস।

ভিডিওতে দেখা যায়, ওই লাউঞ্জের সুশীলরা দাবি করছেন— যারা একটি সঠিক ইংরেজি বাক্য বলতে পারে না, তারা কীভাবে রাষ্ট্র চালাবে বা ভূ-রাজনীতি (Geopolitics) বুঝবে? তাদের দৃষ্টিতে ইংরেজি না জানা মানেই সক্ষমতার অভাব।

তবে এই আলোচনার মাঝেই দৃশ্যপটে আসেন একজন রহস্যময় ‘ছায়া পুরুষ’ (Shadow Man), যাকে রাষ্ট্রের ‘ডিপ স্টেট’ বা নীতি-নির্ধারণী মহলের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে এই দম্ভের মূলে আঘাত করেন।

বিশ্বের শক্তিশালী জাতিগুলোর উদাহরণ

তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমান বিশ্বে যারা সবচেয়ে শক্তিশালী— চীন, রাশিয়া, জাপান, তুরস্ক, ফ্রান্স বা জার্মানি— তারা কিন্তু ইংরেজিতে কথা বলে বিশ্বজয় করেনি।

চীনের প্রেসিডেন্ট যখন জাতিসংঘে ভাষণ দেন, তিনি তার মাতৃভাষায় কথা বলেন।

গালোয়ান উপত্যকায় যখন চীনা সেনারা যুদ্ধ করে, তারা তাদের মাতৃভাষায় কমান্ড দেয়।

জাপানিরা তাদের নিজস্ব ভাষায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এমন চূড়ায় পৌঁছেছে যে অক্সফোর্ডের পণ্ডিতরাও অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একটি দেশ কতটা শক্তিশালী তা নির্ধারিত হয় না তারা অন্যের ভাষায় কতটা সুন্দর করে কথা বলতে পারে তার ওপর। বরং যারা অন্যের ভাষায় কথা বলে গর্ববোধ করে, তারা আসলে মানসিকভাবে এখনও ঔপনিবেশিক প্রভুদের দাস।

সীমান্তে দাঁড়িয়ে একজন বিজিবি জওয়ান যখন তার ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে বিএসএফ-কে ধমক দেন, তখন তিনি কেবল একজন বর্ডার গার্ড থাকেন না; তিনি হয়ে ওঠেন সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তার মাতৃভূমির প্রতি যে প্রতিশ্রুতি তা হাজারটা ইংরেজি কোচিং সেন্টারের মালিকের চেয়েও বেশি মূল্যবান।

যাওয়ার আগে ওই ছায়া পুরুষ বিদেশি ইন্টেলিজেন্স অ্যাটাশে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের প্রতি একটি কড়া বার্তা দিয়ে যান। তিনি বলেন:"আপনাদের নীতি-নির্ধারকদের জানিয়ে দেবেন— ফ্লুয়েন্ট ইংরেজিতে ড্রাফট করা আপনাদের কোনো ব্লু-প্রিন্ট আর এই দেশে কাজ করবে না। কারণ এই দেশের মানুষ এখন নিজেদের ভাষায়, নিজেদের শক্তিতে জেগে উঠেছে।"

তিনি বিদ্রূপ করে আরও যোগ করেন যে, ইংরেজি চর্চার পাশাপাশি তারা যেন তাদের দেশের খোলা আকাশের নিচে টয়লেটগুলো ঠিক করার দিকে নজর দেয়, তাতে বরং তাদের দেশের বেশি উপকার হবে।

দাবাবোর্ডে এতদিনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ‘মানসিক দাসত্ব’ আজ ভেঙে চূর্ণ হয়ে গেছে। বাংলাদেশে এখন এক নতুন রেনেসাঁর হাওয়া বইছে, যেখানে মানুষ অন্যের ভাষার দম্ভে আর মাথা নত করবে না। যে জাতি নিজের শেকড় খুঁজে পায়, পৃথিবীর কোনো পরাশক্তি বা নিখুঁত ইংরেজি ব্যাকরণ তাকে আর দমিয়ে রাখতে পারে না।

কুশল/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে