ঢাকা, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নমরুদ কে মেরেছিল মশা, মোদিকে মারবে তেলাপোকা 

২০২৬ জুন ১৪ ১২:১৫:৫৫
নমরুদ কে মেরেছিল মশা, মোদিকে মারবে তেলাপোকা 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইতিহাসের পাতায় যখনই কোনো শাসকের অহংকার আকাশছোঁয়া হয়েছে, তখনই প্রকৃতির এক অদৃশ্য শক্তি সেই দম্ভকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। প্রাচীন ব্যাবিলনের সম্রাট নমরুদের পতনের সেই চিরচেনা কাহিনী আজ যেন ভারতের রাজনীতির অন্দরমহলে নতুন এক প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পেয়েছে। সম্প্রতি এক বিশেষ প্রতিবেদনে ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকে ইতিহাসের এই দর্পহারী গল্পের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

হাজার হাজার বছর আগে ব্যাবিলনের সম্রাট নমরুদ নিজেকে ঈশ্বর দাবি করেছিলেন। তার বিশাল সেনাবাহিনী আর অপরাজেয় ক্ষমতার দম্ভকে চূর্ণ করতে কোনো বিশাল শক্তির প্রয়োজন হয়নি; বরং একটি অতি সাধারণ ও ক্ষুদ্র প্রাণী— মশার কামড়েই তার করুণ পতন হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক উপমাটি আজ দিল্লির ‘রাইসিনা হিল’-এ আসীন বর্তমান সরকারের ক্ষমতার কাঠামোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে।

গত এক দশক ধরে ভারতের বর্তমান সরকার ইডি (ED), সিবিআই (CBI)-এর মতো রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে এবং ‘গদি মিডিয়া’-র বয়ান দিয়ে এক দুর্ভেদ্য দুর্গ গড়ে তুলেছে। প্রথাগত বিরোধী দলগুলো যখন এই শক্তির সামনে নিজেদের প্রায় অস্তিত্বহীন মনে করছে, তখনই দৃশ্যপটে হাজির হয়েছে এক নতুন শক্তি— ‘জেন-জি’ (Gen Z) বা জেনারেশন জেড।

এই তরুণ প্রজন্মকে ‘ককরোচ’ বা ‘আরশোলা’-র সাথে তুলনা করা হয়েছে। বিজ্ঞানের ভাষায়, পারমাণবিক বিস্ফোরণেও আরশোলারা টিকে থাকতে পারে; তারা চরম প্রতিকূলতাতেও অমর। জেন-জি প্রজন্ম আজ নিজেদের গর্বের সাথে ‘ককরোচ’ বলে পরিচয় দিচ্ছে। তাদের দাবি— শাসকগোষ্ঠী তাদের যতবার পিষে ফেলার চেষ্টা করবে, তারা ততবারই ফিরে আসবে।

তাদের আন্দোলনের বৈশিষ্ট্যসমূহ:

বিকেদ্রীভূত আন্দোলন: এই প্রজন্মের কোনো নির্দিষ্ট হেডকোয়ার্টার বা কেন্দ্রীয় নেতা নেই, যা পুলিশ বন্ধ করে দিতে পারবে।

ডিজিটাল বিপ্লব: ইন্টারনেট বন্ধ করলেও তারা ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে তাদের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই প্রধান অস্ত্র: শাসকগোষ্ঠীর গাম্ভীর্যকে তারা ট্রল (Troll), মিমস (Memes) এবং হ্যাশট্যাগ (#) দিয়ে নিমিষেই ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে।

এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ সরাসরি কোনো সহিংসতায় বিশ্বাস করে না। তারা বরং সিস্টেমের ভেতরের বয়ান বা ন্যারেটিভকে আক্রমণ করছে। মোদি সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে পরিচিত প্রচারমাধ্যমগুলোকে তারা হাসির পাত্রে পরিণত করেছে এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতিকে অবজ্ঞা করতে শুরু করেছে।

নয়াদিল্লির রাজপথে যখন লাখ লাখ তরুণ মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে পরিবর্তনের স্লোগান দিচ্ছে, তখন নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। ভিডিওটির শেষে এক অমোঘ সত্য উচ্চারিত হয়েছে— যারা নিজেদের অপরাজেয় ভাবে, তাদের পতন হয় সবচেয়ে তুচ্ছ জিনিসের হাতে। আজ জেন-জি প্রজন্মের এই নিঃশব্দ পদচারণা ভারতের রাজনীতির মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায় রচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।অহংকারের পতন নিশ্চিত— আর ইতিহাস সেই উপহাসটি লিখে রাখছে তরুণদের রক্ত ও সাহসের অক্ষরে।

কুশল/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে