ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

এক জেলায়ই ৬ লাখ গরু, দাম ৩৫০ কোটি টাকা

২০২৬ মে ১৯ ১১:২১:৩৪
এক জেলায়ই ৬ লাখ গরু, দাম ৩৫০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর বিশাল প্রস্তুতিতে জমে উঠেছে সিরাজগঞ্জ। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলার প্রায় ১৭ হাজার খামারে মোট ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২ লাখ ষাঁড়। এসব পশুর মোট বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানিয়েছে, দেশীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে ধানের খড়, সবুজ ঘাস, ভুসি, খৈল ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাদ্য দিয়ে এসব পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে খামারগুলোতে এখন চরম ব্যস্ততা চলছে।

কয়েকটি খামার ঘুরে দেখা যায়, কোথাও গরুকে খাদ্য দেওয়া হচ্ছে, কোথাও চলছে গোসল ও পরিচর্যা। খামারিরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পশুর যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছেন। একই সঙ্গে চলছে লাভ-লোকসানের হিসাব।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের বাজার ঘিরে ইতোমধ্যে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন খামারে ভিড় করতে শুরু করেছেন। সিরাজগঞ্জের গরু শুধু স্থানীয় চাহিদা নয়, দেশের বিভিন্ন জেলার হাটেও সরবরাহ করা হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালে শাহজাদপুরে মিল্কভিটার দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সিরাজগঞ্জে গবাদিপশুর খামার গড়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি জেলার অন্যতম বড় অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হয়েছে। এবার দেশীয় জাতের পাশাপাশি শাহিওয়াল, ফ্রিজিয়ান, নেপালি ঘির, রাজস্থানি ও অস্ট্রেলিয়ান জাতের গবাদিপশু পালন করা হয়েছে।

তবে খামারিদের বড় উদ্বেগ এখন উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি। চলতি বছরে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বর্তমানে সরিষার খৈল, গমের ভুসি, ডাবরি ভুসি এবং কাঁচা ঘাসের দাম আগের তুলনায় বেশি হওয়ায় গরু পালন আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

শাহজাদপুর উপজেলার ভাই ভাই ডেইরি ফার্মের পরিচালক শাহান উদ্দিন জানান, তিনি ছয় মাস আগে ৩৪টি গরু কিনে মোটাতাজাকরণ শুরু করেন। পরিবারের সহযোগিতায় তিনি গরুর পরিচর্যা করছেন এবং ভালো বাজারদরের আশা করছেন।

সদর উপজেলার ছোঁয়া মনি অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক আব্দুস সাত্তার জানান, তার খামারে ৬৫টি গরু দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও হজমশক্তি বাড়াতে বিশেষ পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে খান অ্যাগ্রোর পরিচালক নির্ঝর খান বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ অনেক বেড়েছে। তবে ভালো দাম পেলে লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বাজারে ভারতীয় গরু এলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, “চলতি বছরে সিরাজগঞ্জে বিপুল সংখ্যক পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে এখন খামারগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে এই খাত দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।”

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে