ঢাকা, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

সন্তানের সামনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নারী

২০২৬ এপ্রিল ২৫ ১৭:৪১:২৪
সন্তানের সামনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিজ শিশু সন্তানের সামনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নারী (২৮)। ঘটনার পাঁচদিন পর শনিবার দুপুরে এক প্রতিবেশীর বাসা থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে করেছে পুলিশ। গত সোমবার বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় একটি এলাকায় বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি ভালুকা যাওয়ার পথে ধর্ষণের শিকার হন তিনি।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে ময়মনসিংহের একটি এলাকায় বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি ভালুকা যাওয়ার জন্য শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে রওনা হন।

সন্ধ্যার পর তিনি পথ হারিয়ে ফেললে কয়েকজন লোক তাকে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান। পরে নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে তাড়াইল সড়ক দিয়ে অজ্ঞাত স্থানে একটি বিলের কাছে নিয়ে চারজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরে অপেক্ষমাণ দুইজন পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে ফের ধর্ষণ করে। পরে তিনি এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নেন।

ঘটনার পর থেকে তিনি গুরুতর অসুস্থ আছেন। প্রতিনিয়তই তার রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পরে খবর পেয়ে প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছে।গ্রামের সুজন মিয়া(৩২) নামে এক ইজিবাইক চালক জানান, সোমবার রাতে তিনি পাশেই নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের শিমুলতলী বাজারে ইজিবাইক চালাচ্ছিলেন।

ওই সময় গভীর রাতে শিশু কোলে এক নারীকে কাঁদতে দেখে কাছে গিয়ে জানতে চাইলে ওই নারী তাঁকে জানায়, তাকে (নারী) চারজন মিলে পাশের একটি বিলের পাশে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। পরে আবার অন্য দুই জন বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিলের পাশে ধর্ষণের সময় কাছে থাকা শিশুটি চিৎকার করলে তাকে জোরপূর্বক টেনে নিতে চাইলে তিনি জাপটে ধরে রাখেন। এ সময় ধর্ষণকারীরা শিশুকে কিলঘুষি মারে। এতে শিশুটির বাম চোখের নিচে ক্ষত হয়।

ঘটনা শোনার পর তাকে আমি তাকে আমার বাড়িতে নিয়ে যাই। তিনি জানান, পাশের কান্দিউড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে কাজল মিয়া নামে এক যুবক গভীর রাতে এসে ওই নারীকে নিজের আত্মীয় বলে নিয়ে যেতে চাইলে নির্যাতনের শিকার নারী কাজলকে চেনেন না বলে জানালে সে চলে যায়।এদিকে এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাসারত মিয়া এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি আশ্রয়দাতার বাড়িতে গিয়ে হুমকির পাশাপাশি ওই নারীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য জেরা করেন। দ্রুত কিছু টাকা জোগাড় করে তার কাছে দেওয়ার জন্য, অন্যথায় ঝামেলায় পড়তে হবে বলে আশ্রয়দাতাকে জানান ওই ইউপি সদস্য।

নির্যাতনের শিকার নারী জানান, আমার প্রতিনিয়ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এখনও অসুস্থ। আমার নিজের সন্তানের সামনে যেতেও লজ্জা করছে।

নান্দাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম জানান, তিনি নির্যাতনের শিকার নারীর কথা ছাড়াও স্বাক্ষীদের কথা শুনে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে