ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ঈদের নামাজের নিয়ম ও মাসয়ালা

২০২৬ মার্চ ২০ ২১:১৯:২১
ঈদের নামাজের নিয়ম ও মাসয়ালা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রমজানের এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা দিলে মুসলিমদের হৃদয়ে নেমে আসে আনন্দ ও প্রশান্তির আবহ। এই আনন্দকে পরিপূর্ণতা দেয় দুই রাকাতের ঈদের নামাজ, যা মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের তুলনায় এর পদ্ধতিতে কিছু ভিন্নতা থাকায় অনেকেই অতিরিক্ত তাকবির বা রুকুর নিয়ম নিয়ে দ্বিধায় পড়েন। তাই সুন্নাহ অনুযায়ী সঠিকভাবে ঈদের নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে ব্যক্তিগত ইবাদত শুদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি জামাতের শৃঙ্খলাও বজায় থাকে।

যাদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ, তাদের ওপরই ঈদের নামাজ ওয়াজিব। অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম পুরুষ, যারা জামাতে অংশ নেওয়ার সক্ষমতা রাখেন, তাদের ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে (আল মুহিতুল বুরহানি ২/৪৭৬)।

অন্যদিকে নারীদের জন্য ঈদের নামাজ ওয়াজিব নয়। একইভাবে এমন অসুস্থ ব্যক্তি, যিনি ঈদগাহে গিয়ে নামাজ আদায় করতে অক্ষম, তার ওপরও এটি বাধ্যতামূলক নয় (বাদায়েউস সানাইয়ে ১/৬১৭)।

যে ব্যক্তি সফরে রয়েছে, অর্থাৎ ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে, তার ওপরও ঈদের নামাজ ওয়াজিব নয়। তবে সে নামাজ আদায় করলে তা সহিহ হবে এবং সওয়াব লাভ করবে (বাদায়েউস সানাইয়ে ১/৬১৭)।

হজের সফরে থাকা ব্যক্তিদের জন্য ঈদুল আজহার নামাজের বিধান প্রযোজ্য নয় (আজজাখিরাতুল বুরহানিয়া ২/৩৯৪)।

ঈদের নামাজের সময় শুরু হয় সূর্যোদয়ের পর নিষিদ্ধ সময় শেষ হলে এবং তা জাওয়ালের আগে পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এই সময়ের মধ্যেই নামাজ আদায় করতে হয়; জাওয়ালের পর আদায় করলে তা সহিহ হবে না (সুনানে আবু দাউদ ১১৩৫)।

ঈদুল আজহার নামাজ ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর দ্রুত আদায় করা উত্তম, যাতে কোরবানির কাজ তাড়াতাড়ি শুরু করা যায়। একইভাবে ঈদুল ফিতরের নামাজও যত দ্রুত সম্ভব আদায় করা মুস্তাহাব (মুসান্নাফে আবদুর রাজজাক ৫৬৫১)।

ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য খোলা মাঠ বা ঈদগাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া সুন্নত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং খোলাফায়ে রাশেদিন এই পদ্ধতিই অনুসরণ করেছেন। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুল (সা.) ঈদের দিন ঈদগাহে যেতেন (সহিহ বুখারি ৯৬৫)।

তবে যদি খোলা স্থানে নামাজের ব্যবস্থা থাকে, তাহলে অপ্রয়োজনে মসজিদে ঈদের জামাত না করাই উত্তম। যদিও বর্তমানে শহরাঞ্চলে জায়গার স্বল্পতা বা প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করলে তা সুন্নতের পরিপন্থী হবে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, বৃষ্টির কারণে একবার রাসুল (সা.) সাহাবিদের নিয়ে মসজিদেই ঈদের নামাজ আদায় করেছিলেন (সুনানে আবু দাউদ ১১৫৩)।

ঈদের নামাজে আজান বা ইকামতের বিধান নেই। হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি একাধিকবার রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন এবং সেখানে আজান-ইকামত দেওয়া হয়নি (সহিহ মুসলিম ৮৭৮)। তবে কেউ ভুলবশত ইকামত দিলে নামাজ মাকরুহ হবে না (কিতাবুল আসল ১/৩১৯)।

নামাজসহ যেকোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে অন্তরের সংকল্পই যথেষ্ট নিয়ত হিসেবে গণ্য হয়। মুখে উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়, তবে কেউ ইচ্ছা দৃঢ় করার জন্য মাতৃভাষায় উচ্চারণ করলে তাতে সমস্যা নেই (উমদাতুল কারি ১/৩৩)।

ঈদের নামাজ দুই রাকাত। তাকবিরে তাহরিমা বলে শুরু করে সানা পড়ার পর প্রথম রাকাতে তিনটি অতিরিক্ত তাকবির দিতে হয় এবং দ্বিতীয় রাকাতেও তিনটি অতিরিক্ত তাকবির রয়েছে। প্রথম রাকাতে দুই তাকবিরে হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হয় এবং তৃতীয় তাকবিরে হাত বেঁধে নিতে হয়। এরপর কিরাত পড়ে রুকু করা হয়। দ্বিতীয় রাকাতে কিরাত শেষে রুকুর আগে একই নিয়মে তাকবির দেওয়া হয় এবং শেষ তাকবিরের পর রুকুতে যাওয়া হয় (কিতাবুল আসল ১/৩১৯)।

ঈদের নামাজে প্রথম রাকাতে সুরা আলা এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা গাশিয়াহ অথবা প্রথম রাকাতে সুরা কাফ ও দ্বিতীয় রাকাতে সুরা কামার পড়া সুন্নত। তবে অন্য সুরা পড়লেও নামাজ সহিহ হবে (সহিহ মুসলিম ৮৭৮)। এ নামাজের কিরাত জুমার নামাজের মতো উচ্চস্বরে পড়া ওয়াজিব (সুনানে দারাকুতনি ১৮০৩)।

অতিরিক্ত তাকবির দিতে ভুল হলে কিছু করণীয় রয়েছে। যদি ইমাম কিরাত শুরু করার পর ভুল বুঝতে পারেন, তাহলে কিরাত থামিয়ে তাকবির আদায় করে পুনরায় কিরাত পড়বেন। আর রুকুতে চলে যাওয়ার পর মনে পড়লে আর ফিরে আসবেন না; প্রয়োজনে শেষে সিজদায়ে সাহু করতে হবে (শরহুল মুনইয়া ৫৭২; আল-বাহরুর রায়েক ২/১৬১)।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে