ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বাজেটে বিশেষ পদক্ষেপের আহ্বান

২০২৬ মার্চ ১২ ১৯:৪১:২৬
অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বাজেটে বিশেষ পদক্ষেপের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আগামী বাজেট প্রণয়নে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এই তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে, নতুন বাজেট প্রণয়নের সময় বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনীতির ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। তার মতে, স্বল্পমেয়াদে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি এমন নীতিগত সহায়তা থাকতে হবে, যা নতুন বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে এবং কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ বাড়াবে।

সিপিডির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক পরিস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল। জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২.৯০ শতাংশ, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন সময়ের মধ্যে কর আদায়ের হার ৫৯.৪০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গবেষণা সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই সরকারের রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই ঘাটতি সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতিও খুব আশাব্যঞ্জক নয় বলে উল্লেখ করেছে সিপিডি। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কালে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০.৩০ শতাংশে, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এদিকে মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.১৩ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯.৩০ শতাংশ এবং খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.০১ শতাংশ। সিপিডি বলছে, জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকায় বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ অনেক বেড়ে গেছে।

সিপিডি বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের ধীরগতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের বেশি ঋণ গ্রহণের প্রবণতাও বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে সংস্থাটি। তাদের মতে, সরকার যদি ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেয়, তাহলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করেছে সিপিডি। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের মতে, আগামী বাজেট সরকারের জন্য সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে