ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

ইতিহাসে প্রথমবার: ইতিকাফ হচ্ছে না আল-আকসায় 

২০২৬ মার্চ ১২ ১১:২৮:৫২
ইতিহাসে প্রথমবার: ইতিকাফ হচ্ছে না আল-আকসায় 

নিজস্ব প্রতিবেদক : রমজানের শেষ দশ দিনে জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ সাধারণত লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখর হয়। ফিলিস্তিনের বিভিন্ন শহর, গ্রাম ও দখলকৃত অঞ্চলের মানুষ ইতিকাফ, তারাবিহ, কোরআন তিলাওয়াত ও রাতভর ইবাদতের জন্য এখানে ছুটে আসেন। কিন্তু এ বছর সেই দৃশ্য পুরোপুরি হারিয়েছে।

১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর প্রথমবারের মতো রমজানের শেষ দশকে আল-আকসা ও পুরনো শহর প্রায় শূন্য হয়ে পড়েছে। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত যেখানে আগে মানুষ ভিড় করত, সেখানে এখন অস্বাভাবিক নীরবতা বিরাজ করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতিকে অজুহাত দেখিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মসজিদে প্রবেশ প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করেছে। এক প্রবীণ ইমাম বলেন, “আজ আল-আকসা ভীষণ একা। এক সময় হাজার হাজার মানুষ ইতিকাফ করতেন, এখন চার-পাঁচজন নামাজ পড়াচ্ছে।”

মাজদ আল-হাদমি, একজন স্বেচ্ছাসেবক ও দন্তচিকিৎসক, বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতে এই বন্ধকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও এটি বাস্তবে রাজনৈতিক পদক্ষেপ। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে জেরুজালেমের মুসলিম পরিচয় দুর্বল করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আল-আকসা প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জেরুজালেম গভর্নরেট জানায়, ১৯৬৭ সালের পর থেকে মাত্র কয়েকবার আল-আকসায় জুমার নামাজ বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের ৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অবরোধকে সবচেয়ে কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, এবারের বিধিনিষেধ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

মসজিদ পরিচালনা ও মুসল্লির ইবাদতের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। সশস্ত্র সেনাদের টহল বাড়ানো হয়েছে, ধর্মীয় শিক্ষা, আলোচনা সভা ও ইলমি মজলিসও বন্ধ রয়েছে। মসজিদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আনতে সমস্যায় পড়ছেন।

সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো, মুসলিমদের প্রবেশ সীমিত হলেও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশের সময় বাড়ানো হয়েছে। এই নীরবতা নিরাপত্তার কারণে নয়, বরং জেরুজালেমের ধর্মীয় ও জনতাত্ত্বিক চরিত্র পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ বলে ফিলিস্তিনি পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে