ঢাকা, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

জ্বালানি সংকটে বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতার শঙ্কা

২০২৬ মার্চ ০৪ ১৫:২৮:৪৫
জ্বালানি সংকটে বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। কয়েক সপ্তাহ শান্ত থাকার পর বিশ্ব অর্থনীতি যখন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছিল, ঠিক তখনই এই সংঘাতের বিস্তার নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সংঘাত দ্রুত থামার কোনো নিশ্চয়তা নেই, বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ইরান যদি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে কাতার বা সৌদি আরবের মতো প্রধান জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলোর তেল-গ্যাস স্থাপনায় আঘাত হানে, তবে বিশ্ববাজারে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হলে সরাসরি এর প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিতে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার বাড়াতে বাধ্য হবে, যা সাধারণ মানুষের গাড়ি বা বাড়ির ঋণের খরচ বাড়িয়ে দেবে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেনেথ এস রোগফ সতর্ক করে বলেছেন, অনেকেই এই সংঘাতকে স্বল্পমেয়াদি ভাবলেও ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের উদাহরণ টেনে জানান, বর্তমানে বিশ্ব এক গভীর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ৩০ শতাংশ এবং গ্যাসের ১৭ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, যার বড় অংশই পরিবাহিত হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে।

হরমুজ প্রণালি যদি কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ হয়ে যায় বা কোনো শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে শুধু তেলের দাম নয়, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের দামও লাফিয়ে বাড়বে। এর ফলে সারের দাম বেড়ে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোর খাদ্যনিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য কিছু দেশ উৎপাদন বাড়িয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখার আশ্বাস দিচ্ছে, তবুও বিশ্ব অর্থনীতি এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে, সরবরাহ সামান্য বিঘ্নিত হলেই বড় ধরনের ধস নামতে পারে।

এই সংঘাতের ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো। চীন, জাপান, জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শিল্পোন্নত দেশগুলো আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের রপ্তানি খাত চাপের মুখে পড়বে। বিশেষ করে চীন, যারা রিয়েল এস্টেট খাতের মন্দা সামলাচ্ছে, তাদের জন্য ইরানি তেলের সরবরাহ বন্ধ হওয়া হবে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। ভারতের অর্থনীতিও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাবে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। ইতোমধ্যেই তেলের দাম এক দিনে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা বাজারের অস্থিরতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা ও উচ্চ শুল্কের চাপে থাকা দেশগুলো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। অন্যথায়, মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুনের আঁচ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে