ঢাকা, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে শৃঙ্খলা আনতে নতুন দায়িত্ব নিচ্ছে সিডিবিএল

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৫:৫০:৪৪
মিউচুয়াল ফান্ড খাতে শৃঙ্খলা আনতে নতুন দায়িত্ব নিচ্ছে সিডিবিএল

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের মিউচুয়াল ফান্ড খাতে নতুন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)। এতদিন তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের বিতরণ, হস্তান্তর ও নিষ্পত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এবার তারা মিউচুয়াল ফান্ডের কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করার প্রস্তুতি নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পেতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আবেদন জমা দেওয়া হবে।

সিডিবিএলের পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)ও উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। সম্প্রতি এক বৈঠকে কমিশন সিডিবিএলকে কাস্টডিয়ান লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে উৎসাহিত করে। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল মোতালেব জানিয়েছেন, মিউচুয়াল ফান্ডের কাস্টডিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।

এ উদ্যোগ এমন সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন কাস্টডিয়ানদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা নিয়ে বাজারে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশন (ইউএফএস) পরিচালিত তিনটি ওপেন-এন্ডেড ফান্ড থেকে প্রায় ২০৭ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় কাস্টডিয়ানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হামজা আলমগীর ২০২২ সালের অক্টোবরে অর্থ নিয়ে দুবাইয়ে চলে যান। ওই ঘটনায় কাস্টডিয়ান হিসেবে দায়িত্বে থাকা ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-র ভূমিকাও সমালোচনার মুখে পড়ে।

অন্যদিকে, শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদি মন্দাভাব সিডিবিএলের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের প্রতি এক লাখ টাকা নিষ্পত্তিতে তারা ২৫ টাকা ফি পায়। ফলে দৈনিক লেনদেন কমে গেলে আয়ের পরিমাণও কমে যায়। এছাড়া বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার) হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি ১০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা করায় আয় আরও কমেছে। ২০২৫ অর্থবছরে বিও হিসাব থেকে বার্ষিক আয় নেমে এসেছে ৭ কোটি টাকায়, যা আগের বছর ছিল ১৩ কোটির বেশি। এর ফলে একই অর্থবছরে পরিচালন মুনাফা ১৭ শতাংশের বেশি কমে ৫২ কোটি ২০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। নতুন আয়ের ক্ষেত্র তৈরি করতেই কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, এখন কাস্টডিয়ানদের দায়িত্ব শুধু ফান্ডের সম্পদ সংরক্ষণে সীমাবদ্ধ নয়; ইউনিটহোল্ডারদের হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যাংক লেনদেন তদারকির দায়িত্বও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আগে নগদ অর্থ ও লেনদেনের নিয়ন্ত্রণ ছিল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির হাতে। গত বছরের নভেম্বরে কার্যকর হওয়া সংশোধিত নিয়মে কাস্টডিয়ানদের ক্ষমতা ও দায়বদ্ধতা বাড়ানো হয়েছে।

২০০০ সালের আগস্টে প্রতিষ্ঠিত সিডিবিএল দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-র সহযোগিতায় গঠিত হয়।

বর্তমানে দেশের মিউচুয়াল ফান্ড খাতে সম্পদ ব্যবস্থাপনার পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। এ শিল্পে রয়েছে ৬৮টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, ১৩৬টি মিউচুয়াল ফান্ড, ৯ জন ট্রাস্টি এবং ৯ জন কাস্টডিয়ান। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সিডিবিএল কাস্টডিয়ান হিসেবে যুক্ত হলে খাতে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার হতে পারে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে