ঢাকা, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

‘নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি’র অঙ্গীকার নিয়ে এক বছরে এনসিপি!

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১১:০২:৩০
‘নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি’র অঙ্গীকার নিয়ে এক বছরে এনসিপি!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া একদল তরুণকে নিয়ে আত্মপ্রকাশের এক বছর পূর্ণ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ‘নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি’র অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করা দলটি শুরুতেই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। তবে এক বছর পর প্রশ্ন উঠেছে— তারা কতটা শক্তিশালী বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে?

২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জনসভা করে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে দলটি। ঘোষণাপত্রে তারা ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে ছিল— গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং রাজনৈতিক-সামাজিক কাঠামোর গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন।

পরবর্তীতে ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘নতুন বাংলাদেশ’ শিরোনামে ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এতে গণতন্ত্র, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসনিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন, জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা, স্বাধীন গণমাধ্যম ও বাংলাদেশকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠার পর জুলাই মাসে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির মাধ্যমে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ৬৪ জেলায় সফর করে দলটি। এতে তারা প্রান্তিক পর্যায়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীকে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এনসিপি। এর মধ্যে ৬টি আসনে জয়লাভ করে দলটির প্রার্থীরা। মোট ২২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩১ ভোট পেয়ে তারা জাতীয় ভোটের ৩.২১ শতাংশ অর্জন করে।জয়ী আসনগুলোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বা বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ধারার রাজনীতির অঙ্গীকার করলেও নির্বাচনি জোটে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে এনসিপি মূলধারার প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরেই অবস্থান নিয়েছে। ফলে স্বতন্ত্র বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের আলাদা করে তুলতে পারেনি।

আইনুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতন্ত্র চর্চাকেন্দ্রের পরিচালক, বলেন— আন্দোলনের শক্তি দিয়ে জনমত তৈরি করা যায়; কিন্তু নির্বাচনি রাজনীতিতে টিকে থাকতে প্রয়োজন সংগঠন, কৌশল, অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব ও বিস্তৃত সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা। তার মতে, এই জায়গায় এনসিপি এখনো পরিপক্ব নয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের দ্বিমুখী রাজনৈতিক বাস্তবতায় তৃতীয় শক্তির জায়গা থাকলেও সেটি ধরে রাখতে সাংগঠনিক গভীরতা জরুরি।

দলের নেতারা বলছেন, এক বছরে সাংগঠনিক ভিত শক্ত করা কঠিন হলেও তারা সীমিত ব্যয়ে নির্বাচন, জনসম্পৃক্ত তহবিল সংগ্রহ, সাংস্কৃতিক প্রচারণা ও ট্রাকভিত্তিক জনসভা— এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছেন।

তাদের দাবি, আন্দোলনের আবেগের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক বার্তাও ভোটারদের কাছে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারলে বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

বিশ্লেষকদের অভিমত, এক বছর কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য খুব বেশি সময় নয়। তবে বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে হলে এনসিপিকে তরুণ নেতৃত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে সমাজের সব শ্রেণি ও বয়সের মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।আন্দোলনের স্পিরিটকে সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা— সেটিই এখন এনসিপির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে