ঢাকা, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

বিএসইসির শীর্ষপদে দৌড়ঝাঁপ, আস্থা সংকটে নিয়ন্ত্রক সংস্থা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১৫:২৮:১৮
বিএসইসির শীর্ষপদে দৌড়ঝাঁপ, আস্থা সংকটে নিয়ন্ত্রক সংস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সদ্য নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এক সপ্তাহের মধ্যেই শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি’র শীর্ষ পদগুলো দখলের জন্য শুরু হয়েছে ব্যাপক লবিং। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গত কয়েক দশকে জালিয়াতি এবং স্বার্থান্বেষী নীতিমালার কারণে শেয়ারবাজারে যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরাময়ে এখন সঠিক এবং সাহসী নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ইশতেহারে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের কোনো স্বার্থের সংঘাত আছে কি না বা তারা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর অনুগত কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে বিএসইসিকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা ব্যবসায়ীদের প্রভাবমুক্ত থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকা জরুরি। বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ সিদ্দিকী মনে করেন, বাজার সংশ্লিষ্ট এবং কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল থেকে দূরে থাকাই একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে স্বচ্ছতার সঙ্গে চালাতে সাহায্য করে। তবে একইসঙ্গে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের এমন হতে হবে যারা স্টেকহোল্ডারদের কথা শুনবেন এবং বাজার সমন্বয়ে দক্ষ হবেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার খোন্দকার রাশেদ মাকসুদকে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। তবে কমিশন সূত্রের দাবি, পেশায় ব্যাংকার মাকসুদ বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আস্থায় নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর মেয়াদে জরিমানা এবং নীতি সংস্কারের ওপর বেশি জোর দেওয়া হলেও একটি আইপিও-ও অনুমোদিত হয়নি। এছাড়া বিএসইসির ভেতর অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং কর্মকর্তাদের ওএসডি বা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিগত বছরগুলোতে বিএসইসির বিভিন্ন পর্ষদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের উদাহরণ টেনে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ২০১০-১১ সালের ধসের পর অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সময় অসংখ্য রুগ্ন কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ‘জাঙ্ক স্টকে’ পরিণত হয়। আবার অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের কমিশনের বিরুদ্ধে ফ্লোর প্রাইস দিয়ে বাজার বাধাগ্রস্ত করা এবং বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষার অভিযোগ ওঠে। এমনকি তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাথে বাজার সংশ্লিষ্টদের ব্যবসায়িক সম্পর্কের কথাও সামনে আসে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী এবং ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) মতো সংগঠনগুলো চায় এমন নেতৃত্ব, যারা বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পারবেন। বিশেষ করে ১৯৯১-৯৫ এবং ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপির শাসনামলে শেয়ারবাজারে বড় কোনো কেলেঙ্কারি না হওয়ার রেকর্ড থাকায় নতুন সরকারের ওপর প্রত্যাশা অনেক বেশি। এখন দেখার বিষয়, ভঙ্গুর এই খাতকে টেনে তুলতে নতুন সরকার শেষ পর্যন্ত কাদের হাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাবিকাঠি তুলে দেয়।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে