ঢাকা, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

মুনাফা ও ক্যাশ ফ্লোতে উজ্জ্বল একমি ল্যাবরেটরিজ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৭:০১:২৯
মুনাফা ও ক্যাশ ফ্লোতে উজ্জ্বল একমি ল্যাবরেটরিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ফার্মা ও রসায়ন খাতের শীর্ষ কোম্পানি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড সাম্প্রতিক সময়ে মুনাফা ও পরিচালন নগদ প্রবাহ (ক্যাশ ফ্লো) বৃদ্ধির মাধ্যমে শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে। উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ এবং পণ্য বৈচিত্র্যকরণের সুফল প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সূচকে প্রতিফলিত হচ্ছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে সর্বশেষ প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫ প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৮৬ পয়সা। অর্থাৎ এক প্রান্তিকেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে কোম্পানিটি।

চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) কোম্পানির মোট ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ১১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। শুধু মুনাফাই নয়, নগদ প্রবাহেও (এনওসিএফপিএস) বড় অগ্রগতি দেখা গেছে। প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ হয়েছে ১২ টাকা ১৬ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৬ টাকা ৮৫ পয়সা (রিস্টেটেড)। নগদ প্রবাহের এই শক্ত অবস্থান কোম্পানির কার্যক্রমের স্থিতিশীলতা ও ব্যবসায়িক দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও কোম্পানির ধারাবাহিক উন্নতি ছিল লক্ষণীয়। জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫ সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৩ টাকা ০১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৬১ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) বেড়ে দাঁডিয়েছিল ৭ টাকা ০৭ পয়সায়। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৬ টাকা ৪৪ পয়সা। অর্থাৎ বছরজুড়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে একমি ল্যাবরেটরিজ।

সম্পদের ভিত্তিতেও কোম্পানির অবস্থান মজবুত। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১২৮ টাকা ৯৭ পয়সা, যা ৩০ জুন ২০২৫ শেষে ছিল ১২৬ টাকা ৩৭ পয়সা। সম্পদের এই ক্রমোন্নতি বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিভিডেন্ড প্রদানের ক্ষেত্রেও কোম্পানিটির রয়েছে ইতিবাচক ইতিহাস। ২০২১ সালে ২৫ শতাংশ, ২০২২ সালে ৩০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৩৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৩৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে একমি ল্যাবরেটরিজ। সর্বশেষ ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য পরিচালনা পর্ষদ ৩৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করেছে। যদিও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে ২০২৫ সালে ইপিএস সামান্য কমে ১১ টাকা ৪৮ পয়সা হয়েছে (২০২৪ সালে ছিল ১১ টাকা ৬১ পয়সা), তবুও ডিভিডেন্ডের ধারাবাহিকতা বিনিয়োগকারীদের জন্য ছিল বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা।

চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে শক্তিশালী আয় ও উল্লেখযোগ্য নগদ প্রবাহের ধারাবাহিকতা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে—একমি ল্যাবরেটরিজ আবারও উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা, সঙ্গে কোম্পানির সুদৃঢ় মৌলভিত্তি ও দক্ষ পরিচালন কাঠামো ভবিষ্যতে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য আরও ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে