ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

জামায়াত জোটে যোগ দিচ্ছেন মাহমুদুর রহমান মান্না!

২০২৬ জানুয়ারি ২৩ ১৮:২৩:৪৫
জামায়াত জোটে যোগ দিচ্ছেন মাহমুদুর রহমান মান্না!

নিজস্ব প্রতিবেদক: নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে শরিক হতে যাচ্ছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দুই দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, আগামী দুই-একদিনের মধ্যেই এই জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে। এ প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্না সরাসরি কোনো নিশ্চয়তা না দিলেও বেশ কৌশলী মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখন সমঝোতার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান ঠিক করতে ব্যস্ত, তাই শেষ পর্যন্ত কে কোন জোটে যাবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। জামায়াত জোটে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি 'হ্যাঁ' বা 'না' কোনোটিই না বলে বিষয়টি সময়ের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

বিএনপির সাথে দীর্ঘদিনের যুগপৎ আন্দোলনে থাকলেও শেষ পর্যন্ত আসন না পাওয়া নিয়ে মান্নার মধ্যে চাপা ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে বগুড়া-২ আসনে তাকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি সেখানে নিজস্ব প্রার্থী শাহে আলমকে 'ধানের শীষ' প্রতীক দেওয়ায় তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ভবিষ্যতে মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ত্যাগের মূল্যায়ন না হওয়ায় মান্না বর্তমানে তাঁর দল 'নাগরিক ঐক্য'-এর হয়ে ১১টি আসনে নিজস্ব প্রতীক 'কেটলি' নিয়ে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে জামায়াত নেতাদের সাথে তাঁর দফায় দফায় আলোচনা চলছে এবং তিনি ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ উভয় আসনেই জয় নিশ্চিত করতে চান।

জামায়াত ইসলামীও তাদের ১০ দলীয় জোটকে ১১ দলীয় জোটে রূপান্তর করার ঘোষণা দিয়েছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, খুব শীঘ্রই নতুন শরিক দলের নাম ঘোষণা করা হবে। জামায়াত সূত্রমতে, তারা মান্নাকে ঢাকা-১৮ আসনে ছাড় দিতে আগ্রহী। সেক্ষেত্রে ওই আসনে জামায়াত সমর্থিত জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীব মাঠ ছেড়ে দিয়ে মান্নাকে সমর্থন জানাতে পারেন। তবে নাগরিক ঐক্যের কিছু সদস্য মনে করছেন, জামায়াত জোটে গিয়ে যদি মান্না এমপি হতে না পারেন, তবে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

মাহমুদুর রহমান মান্নার রাজনৈতিক ইতিহাস অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ও বৈচিত্র্যময়। ১৯৭২ সালে চাকসুর জিএস নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর উত্থান শুরু। এরপর জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি, ডাকসুর ভিপি এবং বাসদ ও জাতীয় মুক্তি দল গঠনের মাধ্যমে তিনি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। নব্বইয়ের দশকে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিলেও ২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত সরকারের সময় সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর দলটির সাথে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। পরবর্তীতে তিনি নাগরিক ঐক্য গঠন করেন এবং ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে কারাবরণও করেন।

চলতি অর্থবছরের এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মান্নার এই দলবদল শেয়ারবাজারের মতো অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পূর্বাভাস দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্দোলনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শেষ মুহূর্তে জামায়াতের জোটে যাওয়া মান্নার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে যাওয়ার লক্ষ্যেই তিনি এই ঝুঁকি নিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণার এই পর্যায়ে বড় জোটগুলোর এই হিসাব-নিকাশ সাধারণ ভোটারদের মনেও নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ক্যাশ বা আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে ভোটের মাঠের প্রকৃত চিত্র ১২ ফেব্রুয়ারি ফুটে উঠবে।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে