ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

তিন কোম্পানিকে অবিলম্বে পর্ষদ সভা আহ্বানের নির্দেশ বিএসইসির

২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১৮:৩৯:৪৬
তিন কোম্পানিকে অবিলম্বে পর্ষদ সভা আহ্বানের নির্দেশ বিএসইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের তিন কোম্পানি-বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও শাইনপুকুর সিরামিকসের পর্ষদ সভা আহ্বানের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) ও কোম্পানি সচিবকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আগামী ১২ কর্মদিবসের মধ্যে এই আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পর্ষদ সভা না হওয়ায় কোম্পানিগুলোর ডিভিডেন্ড ঘোষণা, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো আইনি বাধ্যবাধকতাগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং করপোরেট শাসন নিশ্চিত করতেই কমিশন এই বিশেষ আদেশ জারি করেছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি)বিএসইসির আদেশে উল্লেখ করা হয়, বেক্সিমকো গ্রুপের এই তিন কোম্পানি ধারাবাহিকভাবে বার্ষিক নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও ত্রৈমাসিক আর্থিক হিসাব দাখিলে ব্যর্থ হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, বেক্সিমকো লিমিটেড এখনো ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাবসহ চলতি অর্থবছরের কোনো ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন জমা দেয়নি। একই ধরনের অনিয়ম বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও শাইনপুকুর সিরামিকসের ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে, অন্যান্য অনিয়মকারী কোম্পানির তুলনায় কেবল এই তিনটির বিরুদ্ধে কেন এমন কড়া নির্দেশনা—এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোতে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ সংক্রান্ত আইনি জটিলতা ছিল এবং এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। সম্প্রতি আপিল বিভাগ সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করায় কমিশনের আদেশ পুনরায় কার্যকর হয়েছে। এ কারণেই সুনির্দিষ্টভাবে এই তিন কোম্পানিকে পর্ষদ সভা আহ্বানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কমিশন আইন অনুযায়ী অন্যান্য অনিয়মকারী কোম্পানির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, যার মধ্যে পর্ষদ পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন, ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থতার জন্য পর্ষদ সদস্যদের বিরুদ্ধে সাধারণত এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত নামমাত্র জরিমানা আরোপ করা হয়, তাও অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটনের তিন থেকে পাঁচ বছর পর। আরও উদ্বেগজনক হলো—এই জরিমানার বড় অংশই আদায় করা সম্ভব হয় না।

অনাদায়ী জরিমানা আদায়ে কমিশনকে বছরের পর বছর সার্টিফিকেট মামলা পরিচালনা করতে হয়, যেখানে মামলা পরিচালনার খরচেই সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। ফলে কার্যকর ও সময়োপযোগী আইনি প্রয়োগ ছাড়া শেয়ারবাজারে সুশাসন ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে