ঢাকা, রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

নতুন আইপিও বিধিমালা কার্যকর: শেয়ার বাজারে ফিরবে কি সুদিন?

২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৯:৫৫:৫৮
নতুন আইপিও বিধিমালা কার্যকর: শেয়ার বাজারে ফিরবে কি সুদিন?

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে ভালো মানের কোম্পানি ফিরিয়ে আনতে বহুল প্রতীক্ষিত নতুন আইপিও বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ৩০ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫’ গেজেটভুক্ত হয়েছে এবং প্রকাশের সাথে সাথেই এটি কার্যকর করা হয়েছে।

সংশোধিত বিধিমালায় নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে স্টক এক্সচেঞ্জ আইপিও আবেদনের প্রাথমিক অনুমোদন দেবে এবং তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে বিএসইসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহী কোম্পানির ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন হতে হবে ৩০ কোটি টাকা এবং আইপিও-পরবর্তী শেয়ারের অন্তত ১০ শতাংশ বাজারে ছাড়তে হবে। এছাড়া আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারের সময়সীমা ৫ বছর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড এবং মার্জিন রুলস সংস্কারের পর আইপিও বিধিমালা সংশোধন ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ। এটি দীর্ঘমেয়াদে বাজারের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

ভালো মানের কোম্পানি আনার লক্ষ্যে গত এক বছর ধরে বিএসইসি চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো বড় মাল্টিন্যাশনাল বা সরকারি কোম্পানি বাজারে আসেনি। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ নিয়ে চরম হতাশা বিরাজ করছে। বিনিয়োগকারীরা বলেন, একটি ভালো কোম্পানিই পারে বাজারকে ঘুরিয়ে দিতে। স্কয়ার ফার্মা বা গ্রামীণফোনের মতো কোম্পানি যখন এসেছিল, তখন বাজারের চিত্র বদলে গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান কমিশন গত এক বছরে একটিও মানসম্পন্ন কোম্পানি আনতে পারেনি।

বিএসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ১৮টি সরকারি কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের অসহযোগিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

বড় কোম্পানির আইপিও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব রাষ্ট্রায়ত্ত ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসেনি। জানা গেছে, একসময়ের লাভজনক প্রতিষ্ঠান আইসিবি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১,২০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনেছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ঋণের ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে। তবে আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অতীতে দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগের কারণে লোকসান হলেও এখন ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলে যাবে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে বড় কোনো আইপিও আসার সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, ভারত তো দূরের কথা, সুশাসনের দিক থেকে আমরা পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার চেয়েও পিছিয়ে আছি। সুশাসন নিশ্চিত না হলে ভালো কোম্পানিগুলো বাজারে আসতে আগ্রহী হবে না।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বিধিমালা কারসাজি বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তবে এটি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াকে আগের চেয়ে কিছুটা জটিল করে তুলেছে। তবুও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য এই সংস্কার অপরিহার্য ছিল।

এমজে/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে