ঢাকা, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

আনিস আলমগীরকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

২০২৫ ডিসেম্বর ১৮ ১০:২৬:৩২
আনিস আলমগীরকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের পক্ষে কথিত ‘অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলছে, মতপ্রকাশের কারণে কাউকে লক্ষ্যবস্তু করা একটি উদ্বেগজনক ধারা, যা মানবাধিকারের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।

গত ১৫ ডিসেম্বর সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ও আরও চারজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন।

এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া গবেষক রেহাব মাহমুদ এক বিবৃতিতে বলেন, আনিস আলমগীরের গ্রেপ্তার কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি চলমান একটি উদ্বেগজনক প্রবণতার অংশ। নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে বিবেচিত হলেই মানুষকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার না করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত নির্বাচনের আগে বাক্‌স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা। এই দায়িত্ব এড়ানো হলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (আইসিসিপিআর)-এর স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র। ফলে এই চুক্তির অধীনে থাকা দায়বদ্ধতা অনুযায়ী অবিলম্বে আনিস আলমগীরকে মুক্তি দেওয়া উচিত।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, আদালতে নিজের বক্তব্যে আনিস আলমগীর বলেন, তিনি একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘ দুই দশক ধরে ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করে আসছেন। কারও অনুগত হয়ে কাজ করা বা মাথা নত করা তার সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে একটি অধিকারভিত্তিক সমাজ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সবার মানবাধিকার রক্ষা করা জরুরি। একই সঙ্গে ভয় ও নিপীড়নের পরিবেশ তৈরি করে—এমন কঠোর আইন প্রয়োগ থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ১৪ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং পরদিন উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এ মামলায় আনিস আলমগীর ছাড়াও আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, ফ্যাশন মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং উপস্থাপক ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নিষিদ্ধ সংগঠনকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ও প্রচারণা চালানো হচ্ছিল। এসব কার্যক্রম রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এমজে/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে