ঢাকা, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ইউনূস সরকারের শেষ মুহূর্তের চুক্তি নিয়ে অর্থনৈতিক চাপে বাংলাদেশ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১৪:৫২:৩১
ইউনূস সরকারের শেষ মুহূর্তের চুক্তি নিয়ে অর্থনৈতিক চাপে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে দেশের জাতীয় নির্বাচনের আগে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে হওয়ায় তা নিয়ে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। চুক্তির মূল বিষয়বস্তু হলো বাংলাদেশের জন্য মার্কিন বাজারে পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে আনা, যা ৩৭% থেকে ১৯% পর্যন্ত নেমেছে, এবং তৈরি পোশাক পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত করা। তবে চুক্তিতে বাংলাদেশকে আমেরিকা থেকে বড় অঙ্কের বিমান, জ্বালানি এবং কৃষিপণ্য কিনতে বাধ্য করা হয়েছে, যা দেশের বাজেট ও ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অর্থনীতিবিদরা এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তিতে মূল সুবিধা পেয়েছে আমেরিকা, আর বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করা হয়নি।

চুক্তির কারণে কিছু ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশকে মার্কিন নীতি মেনে চলতে হবে, যা চীন, রাশিয়া এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামরিক ও বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া মার্কিন প্রযুক্তি ও মান নিয়ন্ত্রণের শর্তের কারণে বাংলাদেশকে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে, যা স্বাধীন বাণিজ্য নীতি প্রয়োগে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তিতে উল্লেখিত সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও কেনাকাটার বাধ্যবাধকতা ভবিষ্যতে নন-ফাইনার্সিয়াল ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসান উল্লেখ করেছেন, এই চুক্তি মূলত রাজনৈতিক সুবিধার জন্য করা হয়েছে, অর্থনৈতিক স্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক ফাইভার (political favor) অর্জনের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানও উল্লেখ করেছেন, চুক্তিতে সব সংখ্যা কংক্রিটভাবে উল্লেখ করা থাকায় ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে পরিবর্তন করা কঠিন হবে এবং তা দেশের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

চুক্তির ফলে তৈরি পোশাক শিল্পে কিছু সুবিধা থাকলেও দেশের অর্থনীতি, স্বাধীন নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে চুক্তির শর্তে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মার্কিন নীতি অনুযায়ী কিছু পণ্য ক্রয় বাড়াবে, যেখানে বেসরকারি কোম্পানিগুলো ভারত বা চীন থেকে কম খরচে পণ্য কিনতে পারলেও এখন আমেরিকা থেকে আনতে বাধ্য হবে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত খরচের মুখোমুখি হতে পারে। এছাড়া চুক্তিতে মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুবিধা পেলেও, দেশীয় বাজারে ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জটিল হতে পারে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিএনপি সরকারের এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য নেই। নতুন সরকারকে সামনে রেখে প্রশ্ন হলো, এই চুক্তি বজায় রাখা হবে কি বাতিল করা সম্ভব হবে, আর তার ফলে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর কি প্রভাব পড়বে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে