ঢাকা, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

মোহরম সিকিউরিটিজের পরিচালকদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ২২:৪৫:৫৫
মোহরম সিকিউরিটিজের পরিচালকদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রাহকের আমানত বা কাস্টমার ফান্ডের অর্থ তছরুপের অভিযোগে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এর ট্রেকহোল্ডার মোহরম সিকিউরিটিজ লিমিটেডের (ট্রেক-১০৮) ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সব পরিচালকের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিষয়টি কার্যকর করতে সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)-এর অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন।

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তারা হলেন—মোহরম সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুছা এবং পরিচালক আফছারুজ্জামান ও হালিমা পারভীন। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর কমিশন একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। অতিরিক্ত পরিচালক মো. ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটিতে সিএসইর প্রতিনিধিও ছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গ্রাহকের অর্থ সরানোর প্রাথমিক সত্যতা মেলায় সংশ্লিষ্টদের দেশত্যাগ রোধে এ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কনসলিডেটেড কাস্টমার অ্যাকাউন্ট (সিসিএ) সুরক্ষা এখন পুঁজিবাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। নিয়ম অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনাবেচার জন্য যে অর্থ জমা দেন তা সিসিএ-তে নিরাপদে সংরক্ষিত থাকার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কিছু হাউজ ওই তহবিল থেকে অর্থ সরিয়ে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যবহার করছে। মোহরম সিকিউরিটিজ ছাড়াও সিএসইর আরও তিনটি হাউজ—সিলেট মেট্রো সিটি, ট্রেন্ডসেট সিকিউরিটিজ এবং ফার্স্ট লিড সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

এই অনিয়মের প্রভাব কেবল সিএসইতে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর সদস্যভুক্ত বানকো সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ ও তামহা সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধেও প্রায় ১০ হাজার ৯০০ বিনিয়োগকারীর ১৭৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে। ডিএসইর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কিছু ব্রোকারেজ হাউজের মালিকেরা গ্রাহকের অর্থ সরিয়ে নিজেদের ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন, যার ফলে বহু বিনিয়োগকারী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীর অর্থ সুরক্ষিত না থাকলে পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফেরানো সম্ভব নয়। নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে। বিএসইসি মনে করছে, গ্রাহকের অর্থ আত্মসাত শুধু বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং বাজারে তারল্য সংকটও তৈরি করে। তাই অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা অন্য ব্রোকারেজ হাউজগুলোর জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং সামগ্রিকভাবে বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করবে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে