গোপন প্রস্তাব ফাঁস করলেন গোলাম আযমের ছেলে
নিজস্ব প্রতিবেদক: ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত বছরের ৬ আগস্ট প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) ‘আয়না ঘরের’ বন্দিশালা থেকে অক্ষত অবস্থায় মুক্তি পেয়েছিলে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত গোলাম আযমের ছেলে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী। ২০১৬ সালের আগস্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে আযমীকে আটক করে তুলে নেওয়ার অভিযোগ তুলে তার পরিবার।
আয়নাঘরের দীর্ঘ বন্দিজীবন থেকে বের হওয়া পর থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখা গেছে তাকে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বন্দিজীবনের নানা অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেও দেখা যায় সাবেক এ সেনা কর্মকর্তাকে।
বুধবার বিকালে বন্দিজীবনের এমনি একটি অভিজ্ঞতার গল্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন তিনি।বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমীর সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো….
‘আসরের নামাজ শেষে একটু লম্বা দোয়া করার অভ্যাস করে ফেলেছিলাম বন্দী জীবনের শুরু থেকেই। দোয়ার মাঝেই কিছুটা শান্তি পেতাম, মন কিছুটা হালকা হতো। সেদিনও নামাজ শেষে গভীর মনোযোগ দিয়ে দোয়া করছিলাম। মনের সমস্ত আবেগ দিয়ে মহান রবের কাছে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে আকুতি করছি, আর যা যা চাইবার সবকিছু চাইছি। চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় পানি ঝরছে, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে’।
‘হঠাৎ লোহার ভারি দরজার তালা খোলার শব্দে ছন্দপতন হলো। কিছুটা আশ্চর্য হলাম। এমন সময়ে তো কেউ কখনো আসেনি, আসে না! মাথা তুলে তাকাতেই দেখি একজন নিম্ন পদবির অফিসার রুমে ঢুকছেন। স্বাভাবিকভাবেই অমঙ্গল আশঙ্কায় মনটা একটু অশান্ত হয়ে গেল। মুখটা দেখে তার আসার উদ্দেশ্য বুঝার চেষ্টা করবো, তারও উপায় নেই। মাস্ক দিয়ে মুখ ঢাকা। মনে হলো যেন কোন যমদূত, যার চোখ দুটো ছাড়া কিছু দেখার উপায় নেই; চেহারা বুঝার উপায় নেই। তবুও মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। বডি ল্যাংগুয়েজ দেখে বুঝার চেষ্টা করতে থাকলাম। ভাব দেখে খারাপ কিছু বলে মনে হলো না; মনটা কিছুটা শান্ত হলো। তবে, নিশ্চিত হতে পারছিলাম না। ওদের মনের ভিতরে কখন কী দুরভিসন্ধি থাকে কে জানে’!
‘আমি যেমনটা বসে ছিলাম, তেমনটাই বসে থাকলাম। দোয়া শেষ করতে পারলাম না। ‘বসতে পারি’ জিজ্ঞাসা করলেন। একটু আশ্চর্য হলাম! আসার উদ্দেশ্য বুঝার চেষ্টা করতে থাকলাম। মাথায় নানা রকম চিন্তা আসতে লাগলো। তার কথার স্বর, সুর ও বডি ল্যাংগুয়েজ- সব মিলিয়ে আশংকাজনক কিছু মনে হলো না। সামনের চেয়ার থেকে পা দু’টো নামিয়ে ইশারায় বসতে বললাম। কেমন আছেন? জিজ্ঞাসা করলো। চিরাচরিত অভ্যাসমতো আলহামদুলিল্লাহ বললাম। তিনি সামনের চেয়ারে বসলেন এবং কোন রকমের ভূমিকা ছাড়াই বললেন, আপনি একটা মুচলেকা লিখে দেন। কীসের মুচলেকা, কি লিখবো? আমার প্রশ্ন’।
উত্তরে তিনি বললেন, আপনি লিখিত দেন যে, আমি রাজনীতি করবো না, দেশেও থাকবো না। পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকতে চাই। আমি পরিবার নিয়ে বিদেশে চলে যাবো। আমাকে মুক্তি দেওয়া হোক।
‘মুহূর্তের মধ্যে মনে পরে গেল ১৯৭৯ সালের রমজান মাসের এক সন্ধ্যার কথা। শেখ মুজিব ১৯৭৩ সালে আমার বাবা অধ্যাপক গোলাম আযমসহ ৩৯ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করেছিলেন। রমজানের সেই সন্ধ্যায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট জিয়ার পক্ষ থেকে আমার বাবাকেও নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার বিনিময়ে ‘আর রাজনীতি করবেন না’ মর্মে মুচলেকা দিতে বলেছিলেন।
আমার বাবা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আব্বার এই স্মৃতি মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মনের ভেতর অনেক জোর পেলাম। আমি সঙ্গে সঙ্গে মুচলেকা দেওয়ার প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে জবাব দিলাম, ‘আপনারা ক্ষমতার জোরে আমাকে অবৈধভাবে অপহরণ করে এনেছেন, অবৈধভাবে আটক করে রাখছেন। আমি মনে করি আমি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক। আমি দেশে থাকবো কি থাকবো না, রাজনীতি করবো কি করবো না, সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেতে চাইনা। কর্মকর্তাটি কয়েকবার আমাকে একই অনুরোধ করলেও আমি আমার অবস্থানে অটল, অনড় থাকি। এক পর্যায়ে তিনি হতাশ হয়ে চলে যান।
‘আমি বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আযমী, পঞ্চম বিএমএ লং কোর্স এর অফিসার হিসেবে ১৯৮১ সালে ৭ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করি। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে আমি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলাম। আমার আরেকটি পরিচয়, আমি বাংলাদেশের ইসলামি আন্দোলনের প্রাণপুরুষ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আমীর শহিদ অধ্যাপক গোলাম আযমের ৪র্থ সন্তান। আমার দু’টি পরিচয়ই ফ্যাসিস্ট, ব্রাক্ষ্মণ্যবাদী ও বাংলাদেশ বিরোধী শক্তির জন্য ছিলো দুশ্চিন্তার কারণ’।
‘সে কারণেই আমার অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল সামরিক ক্যারিয়ার সত্ত্বেও জালিমরা ২০০৯ সালের ২৪ জুন কোনো কারণ ছাড়া বিনা অপরাধে, বিনা তদন্তে, বিনা বিচারে নজিরবিহীনভাবে আমাকে সামরিক বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে, ফ্যাসিস্টরা ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট রাতে আমাকে নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে গোপন সামরিক কারাগারে (কথিত আয়নাঘর) বন্দী করে রাখে। ছাত্র-জনতার ব্যাপক আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটলে দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর পর ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট রাত প্রায় পৌনে বারোটায় আমি মুক্তি পাই, আলহামদুলিল্লাহ। এই দেশের জনগণ ও বিপ্লবী ছাত্র-জনতার প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই’।
‘আমি আমার জীবনের এই নির্মম অভিজ্ঞতা, আমার কিংবদন্তিতুল্য পিতার সঙ্গে কাটানো অমূল্য সময় ও সামরিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতা লিখতে শুরু করেছি। মহান জুলাই বিপ্লবের প্রথম বর্ষপূর্তিতে তৌহিদুল মিনহাজ সাহেব তার মহানগর পাবলিকেশন্স থেকে আমার ‘গুম জীবনের’ কথাগুলো বই আকারে প্রকাশ করবেন, ইনশাআল্লাহ। আশা করছি পাঠক এই বইয়ের মাধ্যমে অনেক কিছুই জানতে পারবেন’।
মুসআব/
পাঠকের মতামত:
- বিএনপি মহাসচিব পদে পরিবর্তন: অবসরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল
- এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে গুজব, যা বলছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- তিন ইস্যুতে ট্রাম্পের ওপর সৌদি আরবের ব্যাপক চাপ
- বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিতে ফেলেছে স্বল্প মূলধনীর শেয়ার
- সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি
- সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি
- সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি
- জ্বালানি তেল নিয়ে সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী
- দেড় মাসেই টাকার বড় ধাক্কা! ডলার আরও শক্তিশালী
- মা-বাবার ভালোবাসা পেতে কবিরাজকে ‘৬৬ লাখ’ টাকা দিলো কিশোরী
- পিএইচডি করেও পিএস! তীব্র সমালোচনায় ঢাবি শিক্ষক
- বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান মারা গেছেন
- ৫ ইউনিয়ন নিয়ে গড়ছে নতুন উপজেলা
- “চারপাশে কেউ সত্য বলছে না”—প্রধানমন্ত্রীকে সতর্কবার্তা
- ছুটির খবরে সুখবর! বাড়ল বাৎসরিক ছুটি
- ফোন ধরেন না, উল্টো ব্লক! আমিনুল-তামিম দ্বন্দ্বে চাঞ্চল্য
- নতুন দুই দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের
- কেন অফিস সহায়ককে পুলিশে দিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল
- ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি
- বিমা খাতে ইতিবাচক উন্নতি: বাড়ছে বিমাদাবি পরিশোধের হার
- এপ্রিল মাসেও ডিএসই সূচকে শূন্য সংযোজন
- হজ ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
- অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বড় ধাক্কা
- সরকারি প্ল্যাটফর্মেই বড় সাইবার হামলা
- বিএনপি নেতার মামলায় চিন্ময়ের জামিন মঞ্জুর
- হজের নামে ৮ কোটি টাকার সফর!
- কুমিরের মুখে পড়া কুকুর নিয়ে যা জানালো তদন্ত
- এসএসসিতে বহিষ্কারের ৮ কারণ জানুন
- চৈত্র পেরিয়ে বৈশাখেই হাঁসফাঁস! গরম নিয়ে নতুন আপডেট
- ৫ কোটি ডলার কিনে বাজারে নতুন বার্তা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
- স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন ২০ জন—চমকপ্রদ তালিকা প্রকাশ
- শেয়ারবাজার উন্নয়নে বিএসইসিতে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশের তারিখ জানাল ৬ কোম্পানি
- ‘তুমি সব বোঝো মানি, যতটুকু বোঝো না ততটুকুই আমি’
- কর ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসছে
- ‘আমার ডাকে ৮০ শতাংশ মানুষ রাস্তায় নামবে’
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় নতুন মোড়, জানালো পাকিস্তান
- তিন ব্রোকারেজ হাউজে অনুমোদিত প্রতিনিধি প্রত্যাহার
- কমলো তেলের দাম, চাঙা এশিয়ার শেয়ারবাজার
- ১৬ এপ্রিল ব্লকে পাঁচ কোম্পানির বড় লেনদেন
- যুদ্ধ প্রভাবের ছায়ায় বাজার, সূচকে মিশ্র প্রবণতা
- ১৬ এপ্রিল লেনদেনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৬ এপ্রিল দর পতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৬ এপ্রিল দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- মরিচা নয়, আসল ভয় অন্য কিছু! জানুন টিটেনাসের কারণ
- স্পট মার্কেটে যাচ্ছে দুই কোম্পানি
- সংসদে সরকারি চাকরি নিয়ে বড় আপডেট
- অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক প্রতিবেদনে একাধিক অসঙ্গতি
- মার্জিন অ্যাকাউন্টধারীদের তথ্য তলব, ফান্ড লিকুইডেশন প্রক্রিয়া শুরু
- প্রায় ৬ কোটি শেয়ার হস্তান্তরের ঘোষণা
- জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিতে পারেন রুমিন ফারহানা
- একীভূত পাঁচ ব্যাংক ফিরছে আগের মালিকদের হাতে
- হরমুজে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ নিয়ে বড় ঘোষণা
- চুল কাটার নির্দিষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করে নোটিশ জারি
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশের তারিখ জানাল ৪ কোম্পানি
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশের তারিখ জানাল ৫ কোম্পানি
- ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- ১৪ এপ্রিল থেকেই শুরু—টানা ৫ দিনের ছুটির সুযোগ!
- শেয়ারবাজার চাঙা করতে নীতিসহায়তার আশ্বাস
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশের তারিখ জানাল ৬ কোম্পানি
- শেয়ার দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় ডিএসইর সতর্কবার্তা
- খাদের কিনারা থেকে প্রত্যাবর্তনের পথে পিপলস লিজিং
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা করবে দুই কোম্পানি
- মিউচ্যুয়াল ফান্ডে স্বচ্ছতা ফেরাতে বিএসইসির নতুন উদ্যোগ
- ১৮ কোটি টাকার শেয়ার পেলেন মন্ত্রী আফরোজা খানম
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর
- বিএনপি মহাসচিব পদে পরিবর্তন: অবসরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল
- এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে গুজব, যা বলছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- জ্বালানি তেল নিয়ে সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী
- মা-বাবার ভালোবাসা পেতে কবিরাজকে ‘৬৬ লাখ’ টাকা দিলো কিশোরী
- পিএইচডি করেও পিএস! তীব্র সমালোচনায় ঢাবি শিক্ষক













