ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আসছে ৯ টাকা ইউনিটে

২০২৪ মে ১৩ ০৭:০০:৫০
নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আসছে ৯ টাকা ইউনিটে

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রায় এক দশক ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার পর অবশেষে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে সরকার। নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। এই বিদ্যুৎ আমদানি করতে ভারতকে ট্রেডিং মার্জিন ও ট্রান্সমিশন চার্জ দিতে হবে। সব মিলিয়ে নেপাল থেকে কেনা বিদ্যুতের দাম পড়বে প্রায় ৯ টাকা।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ও দরকাষাকষি শেষে নেপাল থেকে ভারতের মুজাফফরপুর সাবস্টেশন পর্যন্ত প্রতি ইউনিট এনার্জি খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬.৪০ মার্কিন সেন্টস, প্রতি ডলারের দাম ১১৭ টাকা হিসাব করলে বাংলাদেশি সাড়ে ৭ টাকা হয়।

এ ছাড়া ভারতে ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি এনপিটিপিসি, বিদ্যুৎ ভেপার নিগাম লিমিটেডের (এনভিভিএন) ট্রেডিং মার্জিন নির্ধারণ করা হয়েছে ভারতীয় রুপিতে ০.০৫৯৫ রুপি। রোববারের হিসাবে প্রতি রুপি ১ টাকা ৩৬ পয়সা হিসাব করলে যা বাংলাদেশি টাকায় দাঁড়ায় ৮২ পয়সার মতো।

এ ছাড়া রয়েছে ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের নির্ধারিত ট্রান্সমিশন বা সঞ্চালন চার্জ। সব কিছু মিলিয়ে ৯ টাকার বেশি পড়বে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছি। দীর্ঘদিন ধরে নেপাল থেকে আমদানির চেষ্টা চলছে। সব পক্ষের আলোচনার পর এখন নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে আমদানি শুরু হবে।

তিনি বলেন, নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হলে ভারতের ওপর দিয়ে সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করতে হয়। ভারত এতে রাজি। এখন নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে।

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এর আগে একটি সাবস্টেশন বা সাবস্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সাবস্টেশন ব্যবহার করে এখন ভারত হয়ে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। নেপালের ন্যাশনাল ইলেকট্রিক অথরিটি এবং বাংলাদেশের পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের মধ্যে ট্যারিফ নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও ভারতের সাথে সার্কুলেশন চার্জ এবং ট্রেডিং মার্জিনও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে সরকার তিনটি সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে। ভেড়ামারা সাব-স্টেশনের মাধ্যমে ভারতের বহরমপুর থেকে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট এবং কুমিল্লা হয়ে ভারতের সূর্যনগর থেকে আরও ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে।

এছাড়া ভারতের বেসরকারি কোম্পানি আদবানি গ্রুপ থেকেও প্রায় ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে সরকার। নেপাল বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করলে বিদ্যুৎ আমদানির তালিকায় যুক্ত হবে আরেকটি নতুন দেশ।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটিও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি অনুমোদন করেছে। মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ ক্রয় করবে। ভারতের পাওয়ার গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, নেপাল থেকে প্রায় ২৫ বছর ধরে বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আপাতত ৫ বছরের জন্য চূড়ান্ত চুক্তি করেছে পিডিবি। এর আগে, নেপাল ও বাংলাদেশ ২০১৮ সালে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল।

বাংলাদেশের পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড নেপাল ও ভারতের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ নিয়ে নেপালে সানকোশি-৩ প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে। এরই মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এগিয়ে যাওয়ার জন্য দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

এর বাইরে নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কথা ভাবছে সরকার। বিদ্যুৎ খাতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথমবারের মতো পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুৎ বাণিজ্যে দুই দেশ অনেক দূর এগিয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, নেপালে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এখন প্রধানত ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করছেন।

শেয়ারনিউজ, ১৩ মে ২০২৪

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে