ঢাকা, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

বিপাকে শতাধিক প্রবাসী, বৈধ ভিসাও রক্ষা করছে না

২০২৬ মার্চ ১১ ১১:২৯:৫৪
বিপাকে শতাধিক প্রবাসী, বৈধ ভিসাও রক্ষা করছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক : বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় গ্রিসে গিয়ে নির্ধারিত কাজ না পাওয়ায় শতাধিক বাংলাদেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। প্রতিশ্রুত নিয়োগকর্তার কোনো হদিস না থাকার পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই ইতোমধ্যেই অবৈধ হয়ে পড়ছেন। অসাধু মালিক ও দালালদের প্রতারণায় বিপাকে পড়ে তারা বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বারস্থ হয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দালালরা ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে গ্রিসের বিভিন্ন কোম্পানিতে ভালো বেতনের কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে গ্রিসে পৌঁছালে দেখা যায়, ওই নিয়োগকর্তার বাস্তব অস্তিত্ব নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দালালরা গ্রিসের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু কৃষি জমির মালিককে ৫০০ থেকে ১০০০ ইউরো দিয়ে কেবল কাগজের ভিত্তিতে ‘ওয়ার্ক পারমিট’ সংগ্রহ করেছিল। ওই পারমিট দেখিয়ে প্রবাসীরা দেশে থেকে ভিসার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু গ্রিসে পৌঁছালে চাকরির কোনো হদিস পাওয়া যায় না। চুক্তি অনুযায়ী ১ বছর পরপর ৫ বছর পর্যন্ত ভিসা নবায়নের সুযোগ থাকলেও নিয়োগকর্তার অনুপস্থিতিতে সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের পর অনেক বৈধ প্রবাসীরাও অবৈধ হয়ে যাচ্ছেন। অনেকে উপায় না পেয়ে ইতোমধ্যেই ইউরোপের অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

ভুক্তভোগী আসিফ মিয়া বলেন, “দালালকে ১৩ লাখ টাকা দিয়ে কৃষি খামারে কাজের আশায় এসেছিলাম। এখানে এসে দেখি মালিকের কোনো খোঁজ নেই। এখন কাজও নেই, কাগজও নেই।”

অন্য ভুক্তভোগী ইব্রাহিম হোসেন জানান, “মাসে ১২০০ ইউরো বেতনের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু যে কোম্পানির নামে ভিসা হয়েছে, তার কোনো অফিসই বাস্তবে পাওয়া যায়নি।”

নাসিম হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “১১ মাস পার হয়ে গেছে, দালালরা ফোন ধরছে না। এক মাসের মধ্যে আমি অবৈধ হয়ে যাবো। এখন কী করবো বুঝতে পারছি না।”

এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন প্রবাসী এথেন্সে বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ দিয়ে আইনি সহায়তা চেয়েছেন। এ বিষয়ে দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মার্জিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, বৈধ ভিসায় এসেও অনেকে প্রতিশ্রুত নিয়োগকর্তা পাচ্ছেন না। বিষয়টি মান্যবর রাষ্ট্রদূত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সমস্যা সমাধানের জন্য দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও পাঠিয়েছে।

সচেতন মহল মনে করছে, বিদেশে যাওয়ার আগে নিয়োগকর্তার বৈধতা যাচাই করা অপরিহার্য। অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট মানিক হোসেন বলেন, “কাগজের ওপর ভিত্তি করে ভিসা নেওয়ার বদলে নিয়োগকর্তা, চুক্তিপত্র এবং কাজের প্রকৃতি ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।”

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে শ্রমিক নেওয়ার সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও বাংলাদেশে গ্রিক দূতাবাস না থাকার কারণে সাধারণ কর্মীরা এর পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছেন না। এ সুযোগে দালাল চক্র বৈধ কর্মসংস্থানের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

প্রবাস এর সর্বশেষ খবর

প্রবাস - এর সব খবর



রে