নানা অনিয়ম নিয়ে শেয়ারবাজারে আসছে প্লেসমেন্ট গ্যাংদের অ্যাগ্রো অর্গানিকা
শাহ মো. সাইফুল ইসলাম: টাকা না দিয়েই পরিশোধিত মূলধন ও উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার বাড়ানোর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে আসতে চাওয়া অ্যাগ্রো অর্গানিকায় নানা অনিয়ম ও দূর্বলতা উঠে এসেছে। কোম্পানিটির যেমন ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সক্ষমতা নেই, তেমনি শ্রম আইন ও হিসাব মানসহ নানা অনিয়ম রয়েছে।
দুর্বল এই কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনার পেছনে মূল ভূমিকায় কাজ করছে শাহজালাল ইক্যুইটির মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন প্লেসমেন্ট গ্যাং। যাদের উদ্দেশ্য কোনভাবে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত করে শেয়ার বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া।
কোম্পানিটিকে শেয়ারবাজারে আনতে ইউনুসুর রহমানের সঙ্গে কাজ করছে ফরিদ ও কাজী সাইফুর রহমানসহ অন্যান্যরা। এরমধ্যে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে সাইফুর রহমানকে শেয়ারবাজারে নিষিদ্ধ করার শাস্তি দেয় কমিশন। যারা সম্মিলিতভাবে এরইমধ্যে বেশ কিছু কোম্পানিতে প্লেসমেন্ট কারসাজি করেছে।
কোম্পানিটি খসড়া প্রসপেক্টাসের ২৪ পৃষ্ঠায় বাহিরে থেকে নগদ অর্থের উৎসের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ৪৮ লাখ টাকার ঋণ উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু কোম্পানিটিতে ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার স্বল্পমেয়াদি ঋণ রয়েছে। এই ঋণও বাহির থেকে নগদ অর্থের উৎস। এটাকে তারা বাহির থেকে নগদ অর্থের উৎস দেখায়নি।
মূল মার্কেটের ন্যায় এসএমইতে আসা কোম্পানিগুলোরও ডিভিডেন্ড দিতে হয়। বর্তমানে কমিশন সব কোম্পানিকেই অলিখিতভাবে ৩ বছর কমপক্ষে ১০ শতাংশ হারে ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিতে বলছে। কিন্তু অ্যাগ্রো অর্গানিকার সেই অবস্থা নেই। কোম্পানিটির প্রসপেক্টাসে দেখানো ৯ মাসের ব্যবসায় (২০২১-২২ অর্থবছর) শেয়ারপ্রতি পরিচালন ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৫১ পয়সা। অর্থাৎ কোম্পানিটি ৯ মাসে ৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছে।
অ্যাগ্রো অর্গানিকা কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান সক্ষমতার অনেকাংশ উৎপাদন ও বাজারজাত করতে পারছে না। তারপরেও সেই কোম্পানি ব্যবসা সম্প্রসারণে ভবন নির্মাণ, মেশিনারীজ ও ইক্যুপমেন্ট কেনার জন্য শেয়ারবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়াতে চায়। অথচ এই কোম্পানি সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের ব্যবসায় সক্ষমতার ৭০.৬৪ শতাংশ ব্যবহার করতে পেরেছে।
অ্যাগ্রো অর্গানিকা মূলত একটি চাল ব্যবসার কোম্পানি। এই কোম্পানির প্রসপেক্টাসে প্রকাশিত সর্বশেষ ৯ মাসের যে আয়-ব্যয়ের তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেখানে মোট বিক্রির ৩৬ কোটি ২৩ লাখ টাকার আয় বা বিক্রির মধ্যে চাউল থেকে এসেছে ২৩ কোটি ০৫ লাখ টাকা বা ৬৪ শতাংশ।
হিসাববিদদের মতে, বিএএস-৩৬ অনুযায়ি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ইমপেয়ারম্যান্ট লস হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কোম্পানিগুলো তা না করে সম্পদ ও মুনাফা বেশি দেখায়। এক্ষেত্রে অ্যাগ্রো অর্গানিকাও এর ব্যতিক্রম নয়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) করপোরেট গভর্নেন্স ফাইন্যান্সিয়াল বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যেকোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে ইমপেয়ারমেন্ট লস হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কোম্পানিগুলো গতানুগতিকভাবে তা না করে মুনাফা ও সম্পদ বেশি দেখিয়ে থাকে।
প্রসপেক্টাসের ২০ পৃষ্ঠা অনুযায়ি, কোম্পানিটিতে জমি ও জমি উন্নয়ন বাবদ ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। কিন্তু এরমধ্যে জমি উন্নয়ন বাবদ সম্পদ কত টাকার ও জমির পরিমাণ কত, তার কোনো বিস্তারিত তথ্য নেই। অনেকটা তথ্য গোপন করার কারসাজি করেছে অ্যাগ্রো অর্গানিকা।
বিএএস-১৬ অনুযায়ি, ল্যান্ড ডেভোলপমেন্ট অবচয়যোগ্য সম্পদ। এরমধ্যে প্রাচীর, রাস্তা ইত্যাদি সম্পদ থাকে। যেগুলোর নির্দিষ্ট আয়ুস্কাল আছে। কিন্তু কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ল্যান্ড ডেভোলপমেন্টের উপর অবচয় চার্জ করে না।
প্রসপেক্টাস অনুযায়ি, অ্যাগ্রো অর্গানিকা প্রিমিয়াম পাওয়ার যোগ্য হলেও শুধুমাত্র অভিহিত মূল্যে শেয়ারবাজারে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি আর্নিংস বেজড ভ্যালু পার শেয়ার পদ্ধতিতে শেয়ারপ্রতি ২১ টাকা ৫৯ পয়সা পাওয়ার যোগ্য বলে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের ব্যবসায় কোম্পানিটির উদ্যোক্তা/পরিচালকেরা পরিশ্রম করে এই দরের যোগ্যতা অর্জন করেছে। তবে কোম্পানিটি অভিহিত মূল্যে শেয়ার ইস্যু করবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, একটি কোম্পানির সমস্যা থাকলেই কেবল অভিহিত মূল্যে আসতে চায়।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ শ্রম আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে অ্যাগ্রো অর্গানিকা। নিজেদের স্বার্থে শেয়ারবাজার থেকে যখন টাকা নেওয়ার দরকার পড়েছে, তখনই এই ফান্ড গঠন করেছে।
শ্রম আইন অনুযায়ি, ২০০৬ সাল থেকে নিট আয়ের ৫ শতাংশ হারে ফান্ড গঠন করতে হলেও অ্যাগ্রো অর্গানিকা কর্তৃপক্ষ শেয়ারবাজারে আসাকে কেন্দ্র করে সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে এই ফান্ড গঠন করেছে। এর মাধ্যমে শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে অতিরঞ্জিত মুনাফা ও বেশি করে সম্পদ দেখাচ্ছে।
অ্যাগ্রো অর্গানিকা কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন ভঙ্গের মাধ্যমে গত ৫ বছরে (২০১৬-১৭ থেকে ২০২০-২১) ১ কোটি ৮ লাখ টাকার শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১০ লাখ টাকা বা ইপিএস ৩ পয়সা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৭ লাখ টাকা বা ইপিএস ৪ পয়সা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৪ লাখ টাকা বা ইপিএস ৫ পয়সা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৮ লাখ টাকা বা ইপিএস ৫ পয়সা ও ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৯ লাখ টাকা বা ইপিএস ৬ পয়সা বেশি দেখিয়েছে।
এদিকে ওই প্রতারণার মাধ্যমে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ সম্পদও বেশি দেখিয়েছে। তারা প্রসপেক্টাসে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ (এনএভিপিএস) দেখিয়েছে ১৪ টাকা ৬৮ পয়সা। এক্ষেত্রে শ্রম আইন ভঙ্গের মাধ্যমে ২৮ পয়সা বেশি দেখানো হয়েছে।
শেয়ারনিউজ, ২৬ আগস্ট ২০২৩
পাঠকের মতামত:
- ঈদের ছুটিতে চেক ক্লিয়ারিংয়ের নতুন সময়সূচি
- রায় মাথায় নিয়েই দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা!
- নারীদের বিনিয়োগ সচেতনতা বাড়াতে বিএসইসির উদ্যোগ
- ‘ভাবনাকে একা সাজিয়ে আদালতে নিয়ে আসেন ফুফু’
- বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর
- শিক্ষা প্রশাসনে টানাপোড়েনের পর এলো নতুন আদেশ
- এসএমই খাতকে শেয়ারবাজারে আনতে যৌথ উদ্যোগ
- কমোডিটি মার্কেট বিষয়ে জ্ঞান ঘাটতি পূরণে সিএসইর নতুন উদ্যোগ
- নিরাপদ বিনিয়োগ সচেতনতায় বিএসইসির নতুন উদ্যোগ
- শেয়ারবাজারে অনিয়ম: তিন কোম্পানির চেয়ারম্যান-পরিচালকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
- শেয়ারবাজারে বড় কোম্পানি আনতে নতুন নীতির কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী
- শেয়ারপ্রতি ৫০ টাকা বোনাস পাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা
- সরকারি সিদ্ধান্তে পাসপোর্টে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
- মাদরাসায় জাতীয় গান বাধ্যতামূলক; বিরোধীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া
- কোরবানির পশু কেনার নতুন পদ্ধতি নিয়ে তুমুল আলোচনা!
- হাসপাতাল থেকে আসছি, দোয়া করবেন: পলক
- এনআইডি দেখালেই মিলবে ছাড়, মেট্রো রেলে নতুন ঘোষণা
- ভাইপো ট্যাক্স’ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ
- ধারাবাহিক উত্থানে প্রাণ ফিরছে শেযারবাজারে
- দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ
- সাউথইস্ট ব্যাংকের স্টক ডিভিডেন্ডে বিএসসির ছাড়পত্র
- মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের স্টক ডিভিডেন্ডে বিএসইসির অনুমোদন
- আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালকদের তথ্য সংশোধন
- দুই কোম্পানির ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ
- পাওয়ার গ্রিডের মূলধন বৃদ্ধিতে বিএসইসির সম্মতি
- ট্রাস্ট ব্যাংকের স্টক ডিভিডেন্ড ইস্যুতে বিএসইসির সম্মতি
- দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- ন্যাশনাল টি কোম্পানির ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ
- ক্ষমতায় এসেই বিতর্কে অভিনেতা বিজয়
- টানা কমার পর হঠাৎ স্বর্ণের দামে বড় উল্লম্ফন
- ভারতে বাংলাদেশিদের নিয়ে কড়া সিদ্ধান্ত!
- রামিসা হত্যাকাণ্ডের আগে কী ঘটেছিল, জানালেন তার মা
- দুর্বল তিন কোম্পানির আর্থিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখবে ডিএসই
- প্রভিশন ঘাটতিতে বিপর্যস্ত তিন ব্যাংক, প্রকৃত আর্থিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
- তালাক চুক্তিতে উঠে এলো সজীব ওয়াজেদ জয়ের কোটি ডলারের তথ্য!
- কুর্মিটোলা হাসপাতালের নাম পরিবর্তন
- যেভাবে নর্তকীর নাম থেকে এলো জনপ্রিয় আমের নাম
- আসামি সোহেলের স্বীকারোক্তি
- আইপিডিসির স্টক ডিভিডেন্ড বিএসইসির অনুমোদন
- দুইদিন পরেই ১২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের মালিকানা নির্ধারণ
- প্রতারণা মামলায় দণ্ডিত এরশাদের সাবেক স্ত্রী
- রাষ্ট্রপতি বনাম সেনাপ্রধান: উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পুরো দেশ
- ঈদ সামনে রেখে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা
- একবার ওয়াশিং মেশিন চালালে যত টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে
- লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড
- ২০ মে ব্লকে পাঁচ কোম্পানির বড় লেনদেন
- ২০ মে লেনদেনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২০ মে দর পতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২০ মে দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতায় অর্থমন্ত্রীর দ্বারস্থ ব্যাংকাররা
- গরু জবাই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই এলো নতুন আহ্বান
- ২৩ মে ছুটি বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি
- দুর্বল তিন কোম্পানির আর্থিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখবে ডিএসই
- দুইদিন পরেই ১২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের মালিকানা নির্ধারণ
- তিন ইস্যুতে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান
- যেভাবে নর্তকীর নাম থেকে এলো জনপ্রিয় আমের নাম
- বিকাশ-নগদে টাকা পাঠাতে এলো নতুন নিয়ম
- প্রভিশন ঘাটতিতে বিপর্যস্ত তিন ব্যাংক, প্রকৃত আর্থিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
- শেয়ারবাজারে সর্বস্ব হারিয়েও যে কারণে মানুষ ফিরে আসে বারবার
- বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বড় বিক্রিতে চাপে শেয়ারবাজার
- শেয়ারপ্রতি ৫০ টাকা বোনাস পাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা
- শেয়ার দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় ডিএসইর সতর্কবার্তা
- শেয়ার দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় ডিএসইর সতর্কবার্তা
- দেখা মিলল জিলহজ মাসের চাঁদ, জানা গেল ঈদের তারিখ
- আইসিবির কাছ থেকে ২২৫ কোটি টাকা ফেরত চায় বিএসইসি





