×
ঢাকা, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর পর এবার ক্ষমতা হারানোর টার্গেট মোদির

২০২৬ নভেম্বর ০৮ ১৭:২৩:৩৮
ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর পর এবার ক্ষমতা হারানোর টার্গেট মোদির

নিজস্ব প্রতিবেদক: এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের রাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখা নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার এবার ইতিহাসের অন্যতম কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সরে যাওয়া এবং বিরোধীদের একাট্টা আন্দোলনে কার্যত টালমাটাল ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজপথের এই উত্তাপ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর পর নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাকেও বড় ধরনের সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

গত জুনে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এই অস্থিরতার সূচনা হয়। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ—পরিকল্পিতভাবে বিরোধী সমর্থকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই বিতর্কের জেরে খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ফলে এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল এবং নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে রাজপথ উত্তাল হয়ে ওঠে।

দিল্লির যন্তরমন্তর, বারখাম্বা রোড থেকে শুরু করে মুম্বাই পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এই বিক্ষোভ। এবারের আন্দোলনের প্রধান বিশেষত্ব হলো—এর কোনো একক নেতৃত্ব নেই। শিক্ষার্থী, কৃষক, বুদ্ধিজীবী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে এসেছে। কোনো এক জায়গায় পুলিশি বাধার মুখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য জায়গায় কর্মসূচি শুরু হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।

আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, ব্যারিকেড ও পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তবে গত ১১ অক্টোবর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বেআইনিভাবে আটক না করার নির্দেশ দেন এবং গণজমায়েত ও স্বাধীন চলাচলের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষার তাগিদ দেন।

মতাদর্শগত ভিন্নতা ভুলে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে এক মঞ্চে শামিল হয়েছে প্রধান বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি (এসপি), তৃণমূল কংগ্রেস, বামপন্থী দল এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) একযোগে এসআইআর-বিরোধী কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছে।

বিরোধীদের মধ্যে সমন্বয়ের মূল দায়িত্ব নিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি ছোট ছোট দল ও ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে আন্দোলনকে বৃহত্তর জাতীয় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে রাজপথে পুলিশের বলপ্রয়োগ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি সরাসরি সরকারকে জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক নীরজা চৌধুরী ও জিল ভার্নিয়ারের মতে, বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষের অংশগ্রহণ আন্দোলনকে গতিশীল করলেও বিরোধীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—রাজপথের এই জনসমর্থনকে ব্যালট বাক্সে ভোটের সমর্থনে রূপান্তর করা। শুধুমাত্র ভোটার তালিকার ইস্যু নয়, বরং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও দুর্নীতির মতো বিষয়গুলোকে আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে।

বিশ্ব রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পতনের প্রেক্ষাপট টেনে বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের যে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে, তা দ্রুত প্রশমিত করতে ব্যর্থ হলে ভারতের রাজনৈতিক সমীকরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন অনিবার্য।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে