×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

জাপান পাবে ৭৩%, বাংলাদেশ পাবে ২৭%

২০২৬ নভেম্বর ০৫ ১৬:০১:৫৯
জাপান পাবে ৭৩%, বাংলাদেশ পাবে ২৭%

নিজস্ব প্রতিবেদক:হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় (থার্ড) টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে পেতে যাচ্ছে জাপানি কনসোর্টিয়াম। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত এই অত্যাধুনিক স্থাপনার অবকাঠামোগত কাজ প্রায় দুই বছর আগে শেষ হলেও পরিচালন জটিলতায় তা এতদিন আটকে ছিল। আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে টার্মিনালটি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে জাপান যেসব শর্তারোপ করেছে, তা নিয়ে দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্নে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

শাহজালালের এই দৃষ্টিনন্দন থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে মূল অর্থায়ন করেছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। সংস্থাটির ২১ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা ঋণে নির্মিত এই মেগা প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ব পেতে শুরু থেকেই শক্ত অবস্থানে ছিল জাপানি কনসোর্টিয়াম। দীর্ঘদিন ধরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দেনদরবার চলার পর অবশেষে জাপানের দেওয়া প্রধান শর্তগুলো মেনেই চুক্তি চূড়ান্তের পথে এগিয়েছে সরকার।

চুক্তির স্পর্শকাতর শর্তসমূহ ও একক রানওয়ের সীমাবদ্ধতা:

১. ১০০ কিলোমিটারের নিষেধাজ্ঞা:চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অন্য কোনো বিমানবন্দর থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, শাহজালালে বর্তমানে মাত্র একটি রানওয়ে রয়েছে এবং চারপাশের ঘন নগরায়নের কারণে দ্বিতীয় রানওয়ে তৈরির সুযোগ নেই। ফলে এই শর্ত মেনে নিলে আগামী দেড় দশকে রাজধানীর পাশে বিকল্প কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গড়ে তোলার সুযোগ কার্যত রুদ্ধ হয়ে পড়বে।

২. রাজস্ব ভাগাভাগির হিসাব (৭৩% বনাম ২৭%):টার্মিনাল পরিচালনার পর অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রে বড় ছাড় দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। চুক্তি মোতাবেক:

উপার্জিত মোট রাজস্বের ৭৩ শতাংশ যাবে জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে।

বাংলাদেশ পাবে মাত্র ২৭ শতাংশ। আংশিক চালুর মেয়াদে এ অংশীদারিত্ব আরও কম হতে পারে।

তবে ওভারফ্লাইং চার্জ, নিরাপত্তা, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন ও বিমান অবতরণ ফির মতো সার্বভৌম খাতগুলো বেবিচকের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।

যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও লাগেজ অব্যবস্থাপনা দূর করতে থার্ড টার্মিনালের বাণিজ্যিক ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দীর্ঘদিনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে (তবে কার্গো হ্যান্ডলিং বিমানের হাতেই থাকবে)। এই কাজের জন্য চারটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংস্থাকে প্রস্তাব করেছে জাপানি কনসোর্টিয়াম, যার মধ্য থেকে যেকোনো একটিকে লাইসেন্স দেওয়া হবে:বাংলাদেশ কোম্পানি খবর

১. সুইসপোর্ট (Swissport - সুইজারল্যান্ড): বিশ্বের ৪৪ থেকে ৪৯টি দেশের ৩১০টি বিমানবন্দরে কার্যক্রম চালায় প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় ৪৩ হাজার কর্মী নিয়ে বছরে ৪০ লাখ ফ্লাইট ও ৬২ লাখ টন কার্গো পরিচালনা করে তারা।

২. ডানাটা (dnata - সংযুক্ত আরব আমিরাত): ৩৫টি দেশের ১৪৬টির বেশি বিমানবন্দরে সক্রিয়। ৫৫ হাজারের বেশি কর্মী নিয়ে বছরে ৮ লাখ ৮৮ হাজার ফ্লাইট এবং ৩২ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিং করে।

৩. সেলেবি এভিয়েশন (Çelebi - তুরস্ক): ৫টি দেশের ৬০টির বেশি বিমানবন্দরে প্রায় ৯ হাজার কর্মী নিয়ে যাত্রীসেবা প্রদান করছে।

৪. মেনজিস এভিয়েশন (Menzies - যুক্তরাজ্য): ৬৫টি দেশের ৩৪৭টি বিমানবন্দরে পরিচালিত এই সংস্থার কর্মী সংখ্যা ৬৫ হাজারের বেশি। বছরে ৫৩ লাখ ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিচালনা করলেও যুক্তরাজ্য ও নিউজিল্যান্ডের কয়েকটি বিমানবন্দরে সেবার মান নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অতীতে অভিযোগের রেকর্ড রয়েছে।

আধুনিক থার্ড টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ভোগান্তি কমে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত হবে, দ্রুত লাগেজ ডেলিভারি ও ফ্লাইটের টার্ন এরাউন্ড সময় হ্রাস পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। তবে দীর্ঘমেয়াদে আকাশছোঁয়া রাজস্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাওয়া এবং বিকল্প বিমানবন্দর নির্মাণের পথ আটকে থাকার মতো শর্তগুলো দেশের জন্য আশীর্বাদ নাকি কৌশলগত পরনির্ভরশীলতা ডেকে আনবে, সেটিই এখন বড় পরীক্ষার বিষয়।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে