×
ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ভোট চুরির অভিযোগে মোদিকে রাহুলের কড়া হুঁশিয়ারি

২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৯:২৮:৩১
ভোট চুরির অভিযোগে মোদিকে রাহুলের কড়া হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি বলেন, ভারতের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেবে না বিরোধীদের জোট ইন্ডিয়া। ভোট চুরি করে কেউ পালিয়ে যেতে পারবেন না বলেও মোদিকে সতর্ক করেন তিনি।

রোববার (০১ অক্টোবর) রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। জনসভার শুরুতেই রাহুল বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানো এবং দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনাই তাঁদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে রাহুল বলেন, নরেন্দ্র মোদিকে কোথাও যেতে দেওয়া হবে না—এমন কথা বলা হচ্ছে। তবে বাস্তবে ভোট চুরির অভিযোগে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। জ্ঞানেশ কুমারের পর মোদি ও অমিত শাহের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘আপনি কোথাও পালাতে পারবেন না।’

জনসভায় রাহুলের অভিযোগ, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর ভারতের ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, দেশটির মোট ভোটারের প্রতি সাতজনে একজনের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ১৫ শতাংশ। অথচ ওই নির্বাচনে এনডিএ জোট ও বিরোধীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। এ পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি নির্বাচনপ্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ঘটনাটিকে অবৈধ নির্বাচন বলে আখ্যা দেন।

ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়াকে সাধারণ কোনো অপরাধ হিসেবে দেখতে নারাজ রাহুল। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দায়ী করে তাঁর দাবি, কমিশনারের সহযোগিতা ছাড়া নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না।

এ সময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগও তোলেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, দেশের সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা আম্বানি-আদানির মতো হাতেগোনা কয়েকজন ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষকদের ঋণ মওকুফ না করে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হলেও বড় শিল্পপতিদের শত শত কোটি টাকার ঋণ মাফ করা হচ্ছে।

রাহুল গান্ধী বলেন, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ কিংবা জ্ঞানেশ কুমারের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত কোনো বিদ্বেষ নেই। বিজেপি ও আরএসএসের সাধারণ কর্মীদের প্রতিও তাঁর ক্ষোভ নেই। তবে এসব রাজনৈতিক সংগঠন দেশে যে বিদ্বেষের রাজনীতি ছড়িয়েছে, তা ভারতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাহুলের ভাষায়, জনগণের অধিকারই তাঁর কাছে প্রকৃত ধর্ম। তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে