×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের টাকায় ভারতের কোম্পানি ঢাকায় 

২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৫:০৬:৪৩
জাপানের টাকায় ভারতের কোম্পানি ঢাকায় 

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর প্রথম পাতাল মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম প্যাকেজের কাজ পেয়েছে ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি) ও জাপানের সুমিতোমো করপোরেশন। এর মধ্যে রেললাইন ও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা নির্মাণের কাজ যৌথভাবে করবে প্রতিষ্ঠান দুটি। অন্যদিকে, সিগন্যালিং, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপনের কাজ করবে এলঅ্যান্ডটি। এদিকে প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, যা ২০১৯ সালে অনুমোদিত মূল ব্যয়ের দ্বিগুণেরও বেশি।

সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের সিপি-০৯ প্যাকেজের চুক্তিমূল্য ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এই প্যাকেজের আওতায় রেললাইন স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা, ট্র্যাকশন সাবস্টেশন এবং ওভারহেড বৈদ্যুতিক তারের কাজ করা হবে। আর সিপি-১০ প্যাকেজের চুক্তিমূল্য ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এর আওতায় সিগন্যালিং, টেলিযোগাযোগ, প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি স্থাপন করা হবে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদনসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

২০১৯ সালে অনুমোদনের সময় এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। পরবর্তী সংশোধনে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ৬১ হাজার ৮৩৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বা প্রায় ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের সময় স্টেশনের আকার বৃদ্ধি, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং বায়ু চলাচলের শ্যাফটের অবস্থান পরিবর্তন, নির্মাণকাজের সময় যান চলাচল সচল রাখতে বিকল্প সড়ক তৈরি এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত ব্যয়ের পুনর্মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় নকশা ও দরপত্র প্রস্তুতিতে বিলম্বও ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির অর্থায়নে বড় অংশ দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারের অর্থায়ন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং জাইকার ঋণের পরিমাণ ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

এমআরটি লাইন-১-এর মোট দৈর্ঘ্য ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৮৭২ কিলোমিটার অংশ ভূগর্ভস্থ। এই পথে ১২টি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে। অন্যদিকে, নতুন বাজার থেকে পূর্বাচলমুখী অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার।

প্রকল্পের ডিপো নির্মাণ করা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পিতলগঞ্জে। পুরো প্রকল্পে মোট ১৯টি স্টেশন এবং একটি ডিপো থাকার কথা রয়েছে।

প্রকল্পটির মূল পরিকল্পনায় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য ছিল। তবে পরবর্তী সংশোধিত পরিকল্পনায় সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে প্রকল্পটি ২০৩৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় ও সময়সীমা নিয়ে পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। নির্মাণকাজ শেষ হলে বিমানবন্দর, নতুন বাজার, পূর্বাচল ও কমলাপুরের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাফওয়ান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে