×
ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

৩১ অক্টোবরের চাপ নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষামন্ত্রী

২০২৬ অক্টোবর ২৮ ২০:১৯:১৫
৩১ অক্টোবরের চাপ নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামীতে স্কুল ও মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক বেশি জিপিএ পাওয়ার বিষয়টি যাচাই করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মাদ্রাসায় সবচেয়ে বেশি জিপিএ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে। এর সমাধান হিসেবে স্কুল ও মাদ্রাসার পরীক্ষায় একই প্রশ্নপত্র চালুর পরিকল্পনা করছেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আগামী দিন থেকে মাদ্রাসা ও স্কুল একই প্রশ্ন হবে। আলাদা হওয়ার তো কোনো কারণ নেই। ঢাকা ইউনিভার্সিটিসহ সব জায়গায় ভর্তি হয় একই সাবজেক্টে, একই প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়। তাই এরপর থেকে আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসায় একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে। তারপরে দেখব মাদ্রাসায় কেন বেশি জিপিএ পায়, তারপর এক্সামিন করব।”

পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে বলে তাঁর দাবি। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত পরীক্ষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এই এক্সামিনার কারা কারা এই দুষ্টুমি করেছে, তাদেরকে আমি আইনের আওতায় আনব।”

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গেও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, আগের সরকারের সময়ে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে সনদ দেওয়া এবং নিয়োগের কারণে বর্তমানে বদলি ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠার সময় তাঁর পরিকল্পনা ছিল, সনদপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ পাবেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ব্যাপকভাবে সনদ দেওয়া, নিয়োগ ও বিভিন্ন স্থানে পদায়নের ফলে শিক্ষক বদলির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কচুয়ায় রংপুরের কোনো শিক্ষক থাকলে তাঁকে রংপুরে পাঠানো এবং একইভাবে অন্য শিক্ষকদের তাঁদের এলাকার কাছাকাছি বদলির ব্যবস্থা করার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। এ জন্য বদলি কার্যক্রম পরিচালনায় একটি অ্যাপ তৈরির কথাও জানান তিনি।

তবে শিক্ষকদের বদলির প্রত্যাশা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ কেউ কচুয়া থেকে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় কিংবা শাহীনের মতো প্রতিষ্ঠানে বদলি চাইছেন।

বদলি নিয়ে শিক্ষকদের চাপের কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের একজন প্রতিনিধি তাঁকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বদলি কার্যক্রম শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এবং তা না হলে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এমপিও শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি হয়ে আমাকে ধমক দেয়—৩১ অক্টোবরের মধ্যে যদি ট্রান্সফার না হয়, তাহলে দেখে নেবে! কাকে? আমাকে! বুঝলেন তো? আপনি এমপিও শিক্ষক, আপনি স্কুলে গিয়ে পড়ান, মাদ্রাসায় গিয়ে পড়ান। আপনার দায়িত্ব এটা না, এটা আমার দায়িত্ব! লেট মি ডু ইট (আমাকে করতে দিন)!”

শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থাপনা নিজের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি জানান, বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে