×
ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

যে কারণে পিনাকী ভট্টাচার্যের বাবাকে ডেকেছিলেন জিয়াউর রহমান

২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৪:৪৩:৫৯
যে কারণে পিনাকী ভট্টাচার্যের বাবাকে ডেকেছিলেন জিয়াউর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, লেখক ও চিকিৎসক পিনাকী ভট্টাচার্য তাঁর জীবনের সংগ্রাম, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষাজীবন ও করপোরেট ক্যারিয়ারের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এক আত্মজৈবনিক ফেসবুক পোস্টে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) একটি টকশোতে তাঁকে নিয়ে করা মন্তব্যের জবাবে তিনি এসব কথা লিখেছেন বলে পোস্টের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পিনাকীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর গবেষণাভিত্তিক ভিডিও, উপস্থাপনার ধরন ও বিপুল কর্মোদ্যোগের পেছনে কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠান বা অর্থদাতা রয়েছে—এমন ধারণার জবাব দিতেই তিনি নিজের জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় সামনে এনেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের পড়াশোনা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং পেশাগত জীবনের সংগ্রামই তাঁর বর্তমান কাজের ভিত্তি।

পোস্টের বর্ণনা অনুযায়ী, বিটিভির টকশোতে আলোচকেরা প্রশ্ন তোলেন, একজন ব্যক্তির পক্ষে এত পর্বের গবেষণাভিত্তিক ভিডিও তৈরি করা সম্ভব কি না। তাঁদের ধারণা, পিনাকীর পেছনে কোনো দল, প্রতিষ্ঠান বা অর্থায়নকারী গোষ্ঠী কাজ করছে।

এর জবাবে পিনাকী লেখেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে বড় পরিসরে কাজ করার সক্ষমতা সম্পর্কে মানুষের ধারণা অনেক সময় সীমিত থাকে। ফলে কেউ একক প্রচেষ্টায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল কাজ করলে তার পেছনে বড় কোনো প্রতিষ্ঠান বা অর্থায়ন রয়েছে বলে সন্দেহ তৈরি হয়।

তাঁর বক্তব্যের মূল কথা, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, অধ্যবসায় ও ব্যক্তিগত শ্রমের মাধ্যমেও একজন মানুষের পক্ষে বড় পরিসরে কাজ করা সম্ভব।

পিনাকী তাঁর ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের দিনগুলোর কথা তুলে ধরেছেন বলে পোস্টের সারসংক্ষেপে উল্লেখ রয়েছে। নিয়মিত পড়ার টেবিলে দীর্ঘ সময় না কাটিয়েও ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় একবারে উত্তীর্ণ হওয়াকে কেন্দ্র করে সে সময় তাঁকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেছেন।

পোস্টের বর্ণনা অনুযায়ী, এ ঘটনার পর তৎকালীন দুই শিক্ষক অধ্যাপক সানোয়ার হোসেন ও অধ্যাপক সুলতানা রাজিয়াকে বরিশালে বদলি করা হয়েছিল। তবে বদলির সঙ্গে ওই ঘটনার সম্পর্ক এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন পিনাকী। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, কমরেডদের সঙ্গে রাত সাড়ে চারটা পর্যন্ত পোস্টার লাগানোর কাজ করে ভোরে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতেন তিনি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন।

রাজশাহীর ডোমপাড়া, পাটকল শ্রমিক ও ঢাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সংগঠিত করার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। একপর্যায়ে হুলিয়া জারি হলে ডোমপাড়ায় আত্মগোপন করেছিলেন বলে তাঁর বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে।

পিনাকীর মতে, শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ তাঁকে সাধারণ মানুষের ভাষা ও জীবনঘনিষ্ঠ অভিজ্ঞতা বুঝতে সাহায্য করেছে। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে নিজের বক্তব্য সহজভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণে পিনাকী পরিবারের আর্থিক অনটনের কথা তুলে ধরেছেন। পোস্টের বর্ণনা অনুযায়ী, অভাবের দিনগুলোতে করতোয়া নদীতে বড়শি দিয়ে পুঁটি মাছ ধরে খাওয়ার অভিজ্ঞতাও তাঁর জীবনের অংশ ছিল।

অন্যদিকে, বই পড়ার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহের কথাও উঠে এসেছে লেখায়। জেলা পরিষদের লাইব্রেরির বইগুলো পড়তে পড়তে একপর্যায়ে লাইব্রেরির প্রায় সব বই পড়ে ফেলেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তাঁর পড়ার আগ্রহ দেখে লাইব্রেরিয়ান ছুটির দিনেও তাঁকে লাইব্রেরির চাবি দিয়ে যেতেন বলে পোস্টে বর্ণনা রয়েছে।

বাবার ব্যক্তিগত লাইব্রেরি এবং বাড়িতে আসা সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সান্নিধ্যও তাঁর চিন্তা ও জ্ঞানচর্চার বিকাশে ভূমিকা রেখেছিল বলে পিনাকী উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মধ্যে নিমাই ভট্টাচার্য, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোনাজাত উদ্দিন ও আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের নাম রয়েছে।

তাঁর বক্তব্যের সারকথা, শৈশবের প্রতিকূলতা ও বইয়ের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাঁর চিন্তার জগৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

পিনাকী তাঁর পেশাগত জীবন সম্পর্কেও নানা তথ্য তুলে ধরেছেন। পোস্টের বর্ণনা অনুযায়ী, ফার্মাসিউটিক্যালস মার্কেটিংয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে কাজ শুরু করে দীর্ঘ ৩৪ বছরের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। এ সময়ে দেশীয় ও বহুজাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পাশাপাশি করপোরেট ব্যবস্থাপনার শীর্ষ পর্যায়েও দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছেন।

তাঁর এই অভিজ্ঞতা গবেষণা, বিশ্লেষণ, পরিকল্পনা ও উপস্থাপনার দক্ষতা অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে ধারণা পাওয়া যায়।

পোস্টের বর্ণনা অনুযায়ী, জীবনের পরিণত পর্যায়ে আর্থিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফ্রান্সে পাড়ি জমান পিনাকী। সেখানে প্যারিসের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ ও পিএইচডি সম্পন্ন করার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

পিএইচডির গবেষণা উপস্থাপন ও প্রতিরক্ষার পর তাঁর এক ফরাসি অধ্যাপক ইমেইলে তাঁকে জীবনে দেখা সবচেয়ে পরিশ্রমী শিক্ষার্থীদের একজন হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন বলেও পোস্টে দাবি করা হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ডিগ্রির নাম ও অধ্যাপকের মন্তব্যের মতো তথ্য মূল পোস্ট বা সংশ্লিষ্ট নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

নিজের পেছনে কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ করছে—এমন অভিযোগের জবাবে পিনাকী রূপক অর্থে তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতাগুলোকেই ‘ইনস্টিটিউট’ হিসেবে তুলে ধরেছেন বলে পোস্টের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে।

তাঁর বর্ণনায় এই ‘ইনস্টিটিউট’ গড়ে উঠেছে পরিবারের দারিদ্র্য ও টিকে থাকার সংগ্রাম, জেলা লাইব্রেরির বই, ভোররাতে হোস্টেলে বসে পড়াশোনা, শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের অভিজ্ঞতা দিয়ে।

অর্থাৎ, তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানের গবেষণাভিত্তিক কাজ ও উপস্থাপনার দক্ষতা রাতারাতি তৈরি হয়নি; বরং বহু বছরের পড়াশোনা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে তা গড়ে উঠেছে।

পিনাকী ভট্টাচার্যের এই আত্মজৈবনিক পোস্টের বর্ণনায় তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়—শৈশবের অনটন, ছাত্ররাজনীতি, শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, করপোরেট ক্যারিয়ার ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা—একটি ধারাবাহিক অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে