×
ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বিপাকে গ্রাহক, ইনফিনিক্সের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৮:০৬:৪৬
বিপাকে গ্রাহক, ইনফিনিক্সের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জে কথা বলার সময় ইনফিনিক্সের একটি স্মার্টফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন ধরে বিস্ফোরিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন ফোনটির ব্যবহারকারী নাহিদ হাসান। তবে দুর্ঘটনার পর তাঁকে সহযোগিতা করার পরিবর্তে বিস্ফোরিত ফোন, বক্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে চাপ দেওয়া এবং তা না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইনফিনিক্স বাংলাদেশের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী নাহিদ হাসানের দাবি, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) তিনি ইনফিনিক্সের ‘হট ৬০আই’ মডেলের একটি অফিসিয়াল হ্যান্ডসেটে কথা বলছিলেন। এ সময় হঠাৎ ফোনটি অস্বাভাবিকভাবে গরম হতে শুরু করে। বিপদের আশঙ্কায় তিনি দ্রুত ফোনটি হাত থেকে মাটিতে ফেলে দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর প্রায় পাঁচ সেকেন্ড পরই বিকট শব্দে ফোনটি বিস্ফোরিত হয় এবং তাতে আগুন ধরে যায়।

নাহিদ জানান, সময়মতো ফোনটি হাত থেকে সরিয়ে ফেলতে না পারলে তাঁর মুখ, কান ও হাতে গুরুতর আঘাত লাগতে পারত। এমনকি বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কাও ছিল বলে মনে করেন তিনি।

নাহিদ হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, ফোন বিস্ফোরণের ঘটনাটি প্রথমে দুরবীন নিউজে প্রকাশিত হওয়ার পর ইনফিনিক্সের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও খবরটি প্রকাশিত হলে তাঁকে পুড়ে যাওয়া ফোন, ফোনের বক্স ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দিতে বারবার চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাহিদের দাবি, এসব আলামত জমা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও তাঁকে জানানো হয়েছে। এতে একজন সাধারণ গার্মেন্টসকর্মী হিসেবে তিনি মানসিক চাপ ও আইনি জটিলতার আশঙ্কায় রয়েছেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ফোন বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহককে সহযোগিতা করার পরিবর্তে আলামত জমা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এমন চাপ দেওয়া হচ্ছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইনফিনিক্সের ‘হট ৬০আই’ মডেলের ফোন ব্যবহারের সময় বিস্ফোরণের অভিযোগ সামনে আসায় ডিভাইসটির ব্যাটারি, চার্জিং ব্যবস্থা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে নির্দিষ্ট এই ফোনে উৎপাদনগত ত্রুটি ছিল কি না, তা জানতে কারিগরি পরীক্ষা ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

স্মার্টফোনের ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হওয়া, ফুলে যাওয়া বা অস্বাভাবিক আচরণ করা সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকির লক্ষণ হতে পারে। তবে একটি ফোন বিস্ফোরণের অভিযোগের ভিত্তিতে একই মডেলের সব ফোনে ত্রুটি রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

এদিকে, বাজারে একই মডেলের ফোন বিক্রি হচ্ছে এবং অনেক গ্রাহক সেটি ব্যবহার করছেন বলে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন গ্রাহকেরা। তাঁদের দাবি, ফোনটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে ঝুঁকি থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ঘটনার বিষয়ে ইনফিনিক্স বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার ইফতেখার উদ্দিন সানীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফলে গ্রাহককে আইনি ব্যবস্থার হুমকি দেওয়া, বিস্ফোরিত ফোন ও অন্যান্য আলামত জমা দিতে চাপ সৃষ্টি করা এবং দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোম্পানির অবস্থান—এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইনফিনিক্স ফোন বিস্ফোরণের অভিযোগ এর আগেও সামনে এসেছিল। গত বছরের ১২ জানুয়ারি ভোলায় প্রাইভেট পড়া শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে এক তরুণের পকেটে থাকা ‘ইনফিনিক্স হট ৫০ প্রো প্লাস’ মডেলের ফোন বিস্ফোরিত হওয়ার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়। এতে তাঁর কাপড়ে আগুন ধরে যায় এবং তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

ওই ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে ইনফিনিক্সের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে আগের ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

পরপর দুটি ঘটনার অভিযোগ সামনে আসায় ইনফিনিক্স ফোনের ব্যাটারির মান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট মডেলের সমস্যা, নাকি আরও বিস্তৃত কোনো ত্রুটি রয়েছে, তা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী ও সচেতন গ্রাহকেরা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিস্ফোরিত ফোনটির ব্যাটারি, চার্জিং সার্কিট ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তদন্তে উৎপাদনগত ত্রুটি বা নিরাপত্তার ঘাটতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের অভিযোগের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি এবং পণ্যের নিরাপত্তা সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে ফোন বিস্ফোরণের কারণ, ইনফিনিক্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং একই মডেলের অন্য ফোনে কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে কি না—এসব বিষয় এখনো স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে