×
ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

দুই বিয়ে নিয়ে বিতর্কের পর নতুন ঘোষণা মাসুদের

২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৭:৫৭:৫৫
দুই বিয়ে নিয়ে বিতর্কের পর নতুন ঘোষণা মাসুদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই তাঁর ছোট বোনকে বিয়ে করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা টিকটকার ও আইনজীবীর সহকারী মাসুদ রানা এবার প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। একই সঙ্গে শ্যালিকা পূর্ণিমাকে তালাক দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে নিজের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে স্বীকার করেন মাসুদ। এ সময় তিনি সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চলার কথা জানান।

লাইভে মাসুদ রানা বলেন, প্রথম স্ত্রী মৌসুমীকে তালাক না দিয়ে তাঁর ছোট বোনকে বিয়ে করাই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় ভুল। আগে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে পরে শ্যালিকাকে বিয়ে করলে হয়তো এ নিয়ে সামাজিক ও আইনি প্রশ্ন তৈরি হতো না—বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেননি বলে দাবি করেন।

নিজের অজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মাসুদ বলেন, এমন সম্পর্ককে সমাজ ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কীভাবে দেখা হয়, তা আগে বুঝতে পারেননি। বিষয়টি সম্পর্কে জানলে তাঁরা কখনোই এমন ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাসুদ জানান, এখন থেকে সমাজ ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জীবন পরিচালনা করবেন। পাশাপাশি তাঁদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান। লাইভে তিনি শ্যালিকাকে তালাক দেওয়ার ঘোষণাও দেন। তবে তালাকের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় প্রথম স্ত্রী মৌসুমীকে নিয়ে থাকতেন মাসুদ রানা। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সেখানে তাঁদের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয়। পরদিন রবিবার (২৫ অক্টোবর) তিনি প্রথম স্ত্রীর ছোট বোন পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন।

বিয়ের পর নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মাসুদ দাবি করেছিলেন, প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর সম্মতি ও সহযোগিতা নিয়েই তিনি এ বিয়ে করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ণিমার অন্যত্র বিয়ে হলে আগে ধারণ করা কিছু টিকটক ভিডিওকে কেন্দ্র করে তিনি হয়রানির শিকার হতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

পরে দুই স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন মাসুদ। এরপর বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকে তাঁর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন, আবার কেউ কেউ ঘটনাটির সামাজিক ও ধর্মীয় দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।বিয়েকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই শ্যালিকাকে বিয়ে করার প্রতিবাদে স্থানীয় কয়েকজন মাসুদ রানার মুখে চুন-কালি মেখে তাঁকে এলাকা থেকে বের করে দেন বলে জানা গেছে।

তবে এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা আইনি পদক্ষেপের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।ইসলামের বিধান অনুযায়ী, একই সময়ে দুই বোনকে বৈবাহিক সম্পর্কে রাখা নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে দুই বোনকে একসঙ্গে বিবাহবন্ধনে রাখার নিষেধাজ্ঞা উল্লেখ রয়েছে।

তবে কোনো বিয়ের ধর্মীয় ও আইনগত অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি, বৈবাহিক সম্পর্কের অবস্থা এবং প্রযোজ্য আইন বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের জন্য যোগ্য আলেম ও আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, প্রথম স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে তাঁর ছোট বোনকে বিয়ে করার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন মাসুদ রানা। এবার ফেসবুক লাইভে ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দিলেও সেই ঘোষণা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয়, তা জানতে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে